ইতালির মিলানো শহরের কাছাকাছি এক সড়কের ধারে শক্ত করে মুখ আটকানো প্লাস্টিকের একটি ব্যাগ থেকে এক নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে; শিশুটির ওজন প্রায় চার কেজি। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়েরে দেল্লা সেরা ও লা রিপাবলিকা জানিয়েছে, ঘটনাটি সোমবার (১২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া ৪টার দিকে।

সান্দ্রা (৫৮) নামের এক নারী তখন পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটছিলেন। একটি গাছের নিচে নীল রঙের প্লাস্টিকের একটি বাজারের ব্যাগ পড়ে ছিল; কুকুরটি সেটির কাছে গিয়ে বারবার গন্ধ শুঁকতে থাকলে তাঁর সন্দেহ হয়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, ভেতরে হয়তো কুকুরছানা আছে।

ব্যাগটি নড়ে উঠতে দেখে সান্দ্রা সেটি খুলে ফেলেন এবং ভেতরে নবজাতক দেখে স্তব্ধ হয়ে যান। তাঁর ভাষ্যমতে, ব্যাগের মুখ দুটি শক্ত গিঁটে বাঁধা ছিল, শিশুটি ছিল চাদরে মোড়ানো, আর বাকি জায়গা মোজা ও সোয়েটারে ঠাসা; ব্যাগ খুলতেই শিশুটি জোরে কেঁদে ওঠে। সান্দ্রা বলেন, ‘যারা এটা করেছে, তারা শিশুটিকে কেবল ফেলে যায়নি; বরং শ্বাসরোধে মেরে ফেলতে চেয়েছিল।’

এরপরই তিনি ইতালির জরুরি সেবা নম্বর ১১২-তে ফোন করেন। অ্যাম্বুলেন্স আসার আগপর্যন্ত অপারেটরের নির্দেশনা মেনে গায়ের সোয়েটার খুলে তা দিয়ে শিশুটিকে জড়িয়ে নেন এবং শিশুটি যাতে উষ্ণ থাকে ও জেগে থাকে, সে চেষ্টাও করেন।

শিশুটিকে নেওয়া হয় মিলানোর নিগুয়ার্দা হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা জানান, অনেকক্ষণ ব্যাগে থাকায় তার শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে গিয়েছিল; তাপমাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হয়, সঙ্গে দেওয়া হয় হালকা অক্সিজেন সাপোর্ট। শিশুটি এখন আশঙ্কামুক্ত, হাসপাতালের বিশেষ তত্ত্বাবধানে আছে।

কে বা কারা শিশুটিকে ফেলে গেছে, তা খুঁজতে তদন্তে নেমেছে মিলানো পুলিশ; আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে। ইতালির আইনে হাসপাতালে নাম-পরিচয় গোপন রেখে সন্তান প্রসবের সুযোগ আছে, নবজাতককে নিরাপদে রেখে যাওয়ার আইনি ব্যবস্থাও আছে। এমন সুযোগ থাকার পরও শিশুটিকে কেন এভাবে ব্যাগে ভরে রাস্তায় ফেলে যাওয়া হলো, তা নিয়ে বিস্মিত স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।