ভারতে অবস্থান করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। বাংলাদেশ লেবার পার্টির এই চেয়ারম্যান বলেন, এ দায় থেকে ভারত সরকার কোনোভাবেই মুক্ত থাকতে পারে না। শনিবার (৮ আগস্ট) দলের দপ্তর সম্পাদক মো. মিরাজ খানের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বক্তব্য দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে ডা. ইরান বলেন, গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শেখ হাসিনা ভারতের মাটি থেকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, আর এর দায় নরেন্দ্র মোদির সরকারের। একজন দণ্ডিত এবং গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী কীভাবে ভারতের ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলার ও হুমকি দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, শেখ হাসিনার অবস্থান সম্পর্কে ভারত সরকার জানলে তাঁর এমন রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ করার দায়িত্বও দেশটির। ভারত একদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানোর কথা বলছে, অন্যদিকে সে দেশে বসেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্য, হুমকি ও উসকানি দিচ্ছেন; একে ভারতের ঘোষিত নিরপেক্ষতার পরিপন্থী ও স্পষ্ট দ্বৈতনীতি বলে মন্তব্য করেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান।

ডা. ইরান বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির দয়া বা নির্দেশে বাংলাদেশের মানুষ রাষ্ট্র চালাবে না; দেশের মালিক জনগণ, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঠিক করার অধিকারও তাদেরই। শেখ হাসিনার আমলে সংঘটিত গণহত্যা, দমন-পীড়ন, হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার চাওয়া দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই বিচার এড়িয়ে বিদেশে বসে হুমকি ও উসকানি দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, লেবার পার্টি ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ ও পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্ক চায়, তবে সেই সম্পর্কের আড়ালে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ, দণ্ডিত কাউকে রাজনৈতিক তৎপরতার সুযোগ দেওয়া বা জনগণকে হুমকির পরিবেশ তৈরি মেনে নেওয়া হবে না। বিবৃতিতে বিষয়টি দ্রুত স্পষ্ট করতে এবং ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশবিরোধী হুমকি ও উসকানির সুযোগ বন্ধ করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।