একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের কোনো অবদান নেই বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তার ভাষ্য, যুদ্ধের সময় ওই পরিবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিল।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বনানী কবরস্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে রিজভী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান দেশের বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা, আর সে সময় সন্তানসহ বন্দি থাকা বেগম খালেদা জিয়াও একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা। তার অভিযোগ, জিয়াউর রহমান কেন স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, সেই প্রতিহিংসা থেকে মুক্তিযুদ্ধের এই পরিবারকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন শেখ হাসিনা, কারণ মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা বা তার নিজের কোনো অবদান নেই।
রিজভীর দাবি, শেখ হাসিনা কখনোই বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ও দেশপ্রেম সহ্য করতে পারেননি; সে কারণে তাকে একের পর এক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে, আর তার বড় ছেলে তারেক রহমানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের ধাওয়া খেয়ে শেখ হাসিনাকে পালাতে হয়েছে, আর সেই তারেক রহমান আজ অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।
কিছু রাজনৈতিক দল এখন একাত্তরকে ছোট করতে এবং ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চাইছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন রিজভী। তার অভিযোগ, একাত্তর ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামও মুছে ফেলার গভীর চক্রান্ত চলছে। ওই পক্ষের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কাকে খুশি করতে চাচ্ছেন?’
রিজভী আরও দাবি করেন, পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করতেই এসব করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে। তিনি অভিযোগ করেন, সাতচল্লিশ থেকে জুলাই পর্যন্ত সময় নিয়ে আয়োজিত একটি চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবের সাতই মার্চের ভাষণ থাকলেও জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা রাখা হয়নি।
এসব দলের ছাত্র সংগঠন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িপাল্লায় একাত্তরকে হালকা আর জুলাইকে ভারী করে দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। এ ধরনের কাজকে ছোটলোকি আখ্যা দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, তারা প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন।






