দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে কওমি ধারার সাতটি ইসলামপন্থি দল। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আলাদা বিবৃতি ও বার্তায় দলগুলোর শীর্ষ নেতারা তার সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনার পাশাপাশি প্রত্যাশা জানান, দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে তিনি দেশের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করবেন এবং মানুষের অধিকার, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও সংবিধানের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন।

সবার আগে অভিনন্দন জানায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ; দলের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বিবৃতিতে তার সুস্বাস্থ্য, নেক হায়াত ও কল্যাণের জন্য দোয়া করেন। তিনি বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব অলংকারিক হলেও তাকে দলীয় গণ্ডির বাইরে থাকতে হয়, সে কারণেই মির্জা ফখরুলকে বিএনপির মহাসচিবের পদ ছাড়তে হয়েছে, কেননা রাষ্ট্রপতি সবার ঐক্য ও আস্থার প্রতীক। রাজনীতিতে সততা এখন বিরল হলেও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সততায় পরীক্ষিত এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পোড়খাওয়া সেনাপতি—এমন কেউ রাষ্ট্রপতি হওয়া রাজনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মন্তব্য করে চরমোনাই পীর তাকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বিবৃতিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, তিনি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা বজায় রেখে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন। তাদের মতে, এ সময়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা খুবই জরুরি, আর রাষ্ট্রপতি নিরপেক্ষতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করবেন—এটাই দেশবাসীর চাওয়া। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি সংবিধানসম্মত ভূমিকা রাখবেন বলেও আশা করেন জমিয়ত নেতারা এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক শুভেচ্ছার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে দলের অবস্থান জানান; তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের পর কেবল ব্যক্তি বা সরকার নয়, ক্ষমতার কাঠামোয় মৌলিক বদলের প্রত্যাশা থাকলেও সংবিধান সংস্কার এখনো হয়নি এবং বিতর্কিত ৭০ ধারা বহাল রেখেই নির্বাচন হয়েছে। মামুনুল হকের ভাষ্য, জুলাই সনদে দ্বিকক্ষ সংসদের সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক পরামর্শের বদলে ক্ষমতার ভারসাম্য, ক্ষমার আবেদনে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের মত দেওয়ার সুযোগ এবং রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মতো বিষয় রয়েছে, অথচ সেগুলো কার্যকরের আগেই পুরোনো পদ্ধতিতে ভোট হওয়ায় রাষ্ট্রসংস্কারের প্রত্যাশার কী হলো, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবু দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সহযোদ্ধা হিসেবে মির্জা ফখরুল দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য রক্ষায় দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মামুনুল হক।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের যৌথ বার্তায় রাষ্ট্রপতির সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে প্রত্যাশা জানান, তিনি দেশ ও জাতির স্বার্থে সাংবিধানিক আমানত রক্ষা করবেন। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের এবং মহাসচিব মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজী যৌথ বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখবেন। তাদের বিশ্বাস, তার প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্বে জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী অভিনন্দন বার্তায় বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শুধু সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, দেশের ঐক্য-সংহতি এবং মানুষের প্রত্যাশারও প্রতীক। তিনি আশা করেন, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মির্জা ফখরুল ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং দল-মত ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে থেকে সবার অভিন্ন স্বার্থে কাজ করবেন। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়াই এখন মানুষের চাওয়া বলে মন্তব্য করে তিনি রাষ্ট্রপতির সফলতা ও সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী অভিনন্দন বার্তায় বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশ ও জনগণের অভিভাবক। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে মির্জা ফখরুল মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করে তিনি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।