রাষ্ট্রপতি পদে ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়াকে ইতিবাচক বলছেন মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, যিনি খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোটগ্রহণের আগে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বাগত জানান। তার মতে, সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার পথ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বন্ধ রাখায় ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত।

আহমদ আলী কাসেমি বলেন, ৩৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন, যা একটি ভালো দিক। ফখরুলের রাজনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি; তাকে ‘ত্যাগী এবং বিএনপির অত্যন্ত বিশ্বস্ত নেতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ফখরুলের অবদান বিএনপিকে চিরকাল মনে রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের এই নেতা বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হলে রাষ্ট্রপতি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা পেতেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াতে পরিবর্তনের কথা উঠলেও তা কার্যকর হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরার পর সর্বশেষ ১৯৯১ সালে ভোটাভুটিতে রাষ্ট্রপতি হন বিএনপির আবদুর রহমান বিশ্বাস; তিনি ১৭২ ভোট পান, আর আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। ১৯৯৬ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রতিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় ভোট লাগেনি।

এবার মির্জা ফখরুলের বিপক্ষে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোট; নির্ধারিত সময়ে কেউ সরে না দাঁড়ানোয় ভোট নিশ্চিত হয়। ইসির তফসিল অনুযায়ী ভোট হবে সংসদের অধিবেশন কক্ষে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত; গণনাও হবে সেখানেই। নির্বাচনী কর্তার দায়িত্বে আছেন এ এম এম নাসির উদ্দিন, যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

ভোটার কেবল সংসদ সদস্যরা। সংরক্ষিত নারী আসনসহ সংসদের আসন ৩৫০টি হলেও আদালত বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ বাতিল করায় এবার ভোট দেবেন ৩৪৯ জন।

গত ২৪ জুলাই গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন মো. সাহাবুদ্দিন; পদত্যাগপত্রটি তিনি দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের হাতে, যিনি সংবিধান অনুযায়ী এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে। পদ খালি হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়া সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা পড়ে এবং ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে ইসি তা বৈধ ঘোষণা করে।