মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হওয়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে প্রথম কার্যদিবস শুরু করেছেন। সপ্তাহের প্রথম দিনে তাদের অভিনন্দন জানাতে আসা শুভানুধ্যায়ী এবং নানা প্রয়োজনে আসা বিভিন্ন এলাকার সংসদ সদস্যদের ভিড়ে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র দিনভর জমজমাট ছিল।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়া বিএনপি সরকার এখন ছয় মাসের কাজের মূল্যায়ন করছে; কোন মন্ত্রণালয় কেমন করছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা চললেও দায়িত্বশীল কেউ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করছেন না। এর মধ্যেই গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়ে শপথ পড়ান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এতে পাঁচজন নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় আসেন এবং একজন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় এখন পূর্ণমন্ত্রী ২৬ জন ও প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন, আর মন্ত্রিসভার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আছেন ১০ জন।
নতুন পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব পেয়েছেন নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পেয়েছেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সাচিং প্রু জেরী এবং তথ্য ও সম্প্রচারের দায়িত্বে এসেছেন বিএনপির জোটসঙ্গী, ভোলা-১ আসনের এমপি আন্দালিব রহমান পার্থ। এর বাইরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যোগ দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট হিসেবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, যিনি এতদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ছিলেন, আর ধর্ম মন্ত্রণালয়ে গাইবান্ধা-৪ আসনের এমপি মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
রোববার সকাল থেকেই মন্ত্রণালয়গুলোতে নতুন মন্ত্রীদের বরণের তোড়জোড় ছিল; সিনিয়র সচিব, সচিবসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুল ও শুভেচ্ছা স্মারক হাতে তাদের অভ্যর্থনা জানান, এরপর মন্ত্রীরা দপ্তর ঘুরে দেখে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি বৈঠক করেন। প্রথম দিনেই তারা আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক কাজে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের ভাষ্য, সরকারের কর্মপরিকল্পনা শক্তিশালী করা ও প্রশাসনে গতি বাড়াতেই নতুন মুখ যুক্ত করে দপ্তর ভাগ করা হয়েছে।
দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানাতে যান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য জেড মোর্তুজা চৌধুরী তুলা, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরসহ অনেকে; এর আগে সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে মন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ নানা প্রশ্নের জবাব দেন। মঈন খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রথম দিন কর্মকর্তারা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তিনি এখন দাপ্তরিক কাজ বুঝে নিচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে কাজে গতি আসবে বলে আশা করেন। আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, স্থানীয় সরকার সরকারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়; প্রবীণ রাজনীতিক মঈন খান এর দায়িত্ব পাওয়ায় তারা খুশি এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি সফল হবেন বলে তাদের আশা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে ফুল দিয়ে বরণ করেন; কামাল উদ্দিন সবুজ, যিনি বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি বাছির জামালসহ অনেকে তাকে অভিনন্দন জানান। পরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিচিতি সভায় বক্তব্য দেন নতুন মন্ত্রী, সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর স্ট্র্যাটেজিক উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে জনস্বার্থে নিষ্ঠার সঙ্গে উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আর সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন জানান, ধর্মীয় মূল্যবোধ আর নৈতিকতার চর্চা বাড়িয়ে উদার, অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন সমাজ গড়াকেই মন্ত্রণালয় প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নেবে।






