গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর জমা দেওয়া অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার যেন রাজনৈতিক বিবেচনায় না হয়, সে অনুরোধ করেছেন সংগঠনটির সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। এ জন্য মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তুলির অভিযোগ, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের দায়িত্বকালে মায়ের ডাকের অভিযোগগুলো রাজনৈতিক বিবেচনা মাথায় রেখে তদন্ত করে বিচারে তোলার চেষ্টা হয়েছিল; এখন যেন তেমনটি না ঘটে। গুম হওয়া প্রায় ৬০টি পরিবারের সদস্য ও প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জবাবে জানান, গুমের মামলায় দক্ষ পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এখন এসব অভিযোগ নিয়ে কাজ করছেন; আগে একজন থাকলেও আরও চারজনকে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগ সমান গুরুত্বে খতিয়ে দেখা হবে, কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা সেখানে থাকবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় ২৫০ জন গুম হওয়া মানুষের পরিবারের অভিযোগ এসেছে এবং প্রাথমিক তদন্তে সেগুলোর সত্যতা মিলেছে। এদের কারও খোঁজ এখনো মেলেনি; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেই তারা অপহৃত হন বলে প্রসিকিউশন নিশ্চিত হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিটি পরিবারের জবানবন্দি ধাপে ধাপে রেকর্ড করা হচ্ছে।
অপহরণের স্থানগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি পরিবার ধরে নিখুঁতভাবে তদন্ত চলায় প্রতিবেদন পেতে কিছুটা সময় লাগছে। যাদের এখনো সন্ধান মেলেনি, তাদের ঘটনা চলমান অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দলীয় পরিচয়ের প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আগের চিফ প্রসিকিউটরের মতো তিনিও সব গুম পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করছেন; ভুক্তভোগী জামায়াতে ইসলামীর নাকি বিএনপি পরিবারের, তা তিনি আলাদা করে দেখতে চান না। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে থাকা গুমের ৩টি মামলার ভুক্তভোগীদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান রয়েছেন, যারা হয়তো একটি দলের অনুসারী, বলেন তিনি।
আমিনুল ইসলামের ভাষ্য, তার মানে এই নয় যে বিএনপির ভুক্তভোগীদের বিচার হবে না; সুমন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ অন্যদের মামলাও একই মাপকাঠিতে বিচার হবে। শিগগিরই দৃশ্যমান ফল আসবে এবং গুম পরিবারগুলোর জন্য বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।






