ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে—এমন অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিরোধীদলীয় নেতার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে জাতীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে দলের আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ অবস্থান তুলে ধরেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক সমতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে একটি সম্পর্ক চাই।’ তার ভাষ্য, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী এবং এই বাস্তবতা কেউ বদলাতে পারবে না; তবে দেশটির কাছে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ আশা করলেও তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দলটি এখন মনে করছে যা খুশি তা-ই করতে পারবে। সুশাসনের জন্য জরুরি ২০টি অধ্যাদেশ সরকার পাস করেনি বলেও সমালোচনা করেন তিনি। প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার দলীয়করণ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।
ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান জানান, জামায়াত এরই মধ্যে এর প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং পুরোপুরি তৈরি হলে তা জনসমক্ষে আনা হবে। সংসদকে কার্যকর রেখে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত করতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জামায়াত সরকারকে সহযোগিতা করছে, তবে তা কতদূর ও কতদিন চলবে—সে প্রশ্নও আছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে তিনি একটি প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য সম্পাদকদের সহযোগিতা চেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, লেখনীর মাধ্যমে সম্পাদকেরা জাতির সামনে সত্য তুলে ধরেন। সভায় অংশ নেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ ও ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেনসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকেরা। জামায়াতের পক্ষে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়ের পর ব্রিফিংয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, দেশের পরিস্থিতি এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেছেন আমির। তিনি বলেন, সরকারের ভালো উদ্যোগে সহযোগিতা আর জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপের গঠনমূলক ও নিয়মতান্ত্রিক বিরোধিতা—এই নীতি নিয়েই এগোবে দল। দেশের রাজনীতি, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নোত্তর হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র প্রসঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্য রোববারের বৈঠকে যে নীতি ঠিক করেছে, সেটিই জামায়াতের নীতি।
পরওয়ার আরও জানান, সংসদে উন্নয়ন বরাদ্দ, বিলিবণ্টন ও কথা বলার সুযোগে বিরোধী এমপিরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে সভায় তুলে ধরা হয়েছে; দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, প্রবাসীদের অধিকার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রসঙ্গও আলোচনায় আসে। তার ভাষ্য, গণভোটের রায় কার্যকরের বিষয়ে জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্য কোনো আপস করবে না, তারা জনগণের রায়ের সঙ্গেই থাকবে। সংসদে মীমাংসা না হলে দেশের বেশির ভাগ মানুষ যে অবস্থানে থাকবে, জামায়াতও সেখানে দাঁড়াবে বলে জানান তিনি।






