পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের দেওয়া একটি টিভি সাক্ষাৎকার মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রচার করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দেওয়া ওই পোস্ট নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতা কটাক্ষ করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের পোস্টে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম যমুনা টেলিভিশনের এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন এবং সাক্ষাৎকারের লিংক প্রথম কমেন্টে রাখা হয়েছে। পোস্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও বা ছবিও জুড়ে দেওয়া হয়।
এনসিপি নেতা সারজিস আলম পোস্টটির কমেন্টে লেখেন, একটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড পেজে কোন ধরনের পোস্ট দেওয়া উচিত, তা নিয়ে ন্যূনতম কমনসেন্স থাকা দরকার। বিতর্কের কেন্দ্রে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নয়; বরং সরকারি মন্ত্রণালয়ের পেজে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির বেসরকারি টিভি সাক্ষাৎকারের সরাসরি প্রচার কতটা সংগত, সেই প্রশ্ন। দলটির নেতাদের কেউ কেউ একে সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন এবং ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন।
যমুনা টেলিভিশনের ওই সাক্ষাৎকারে শামা ওবায়েদ মানবাধিকার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভিন্ন মামলায় আটক থাকা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ তোলেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, বিরোধী দল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা অন্য যেকোনো দলের কাউকে যেন প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে অন্যায়ভাবে কারাগারে থাকতে না হয়, বর্তমান সরকার সেটি নিশ্চিত করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে যে মাত্রায় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, ইতিহাসে আগে কখনো তা দেখা যায়নি, আর এর সবচেয়ে বড় শিকার বিএনপি ও দলটির নেতাকর্মীরা। সরকার চায় না আগের ‘ফ্যাসিস্ট আমল’ এখন বা ভবিষ্যতে আর ফিরুক; প্রত্যেক মানুষের ন্যূনতম মানবাধিকার রক্ষা করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ জানান, জুলাই-আগস্টের ঘটনার পর আইন অনুযায়ী যেসব মামলা হওয়ার কথা, সেগুলো হয়েছে; খুনে জড়িত ব্যক্তিরা এবং গুম-খুনের নির্দেশ যাঁরা দিয়েছেন, তাঁরাও মামলার আওতায় এসেছেন। তবে অতিউৎসাহী হয়ে করা মামলাগুলো আইন মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখবে এবং কোনো মামলার ভিত্তি না মিললে পর্যালোচনা শেষে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে আগস্টের শুরুতে দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল অংশগ্রহণ নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন শামা ওবায়েদ। সে সময় তাঁর বক্তব্য ছিল, পলাতক বা দণ্ডিত কেউ ভারতে বসে রাজনৈতিক তৎপরতা চালালে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে, আর এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা উচিত।






