নারায়ণগঞ্জ মহানগর হেফাজতে ইসলামের দুটি কমিটি ঘোষিত হয়েছে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে, আর এতে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ সামনে চলে এসেছে। সাংগঠনিকভাবে কোনটি বৈধ, সেই প্রশ্নও উঠছে।
নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি জামে মসজিদে বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে চার সদস্যের মহানগর কমিটির ঘোষণা দেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ; এতে সভাপতি করা হয় মুফতি জাকির হোসেনকে, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রহমানকে। রাত ৯টার দিকে, অর্থাৎ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর, ফতুল্লার জামতলায় সাত সদস্যের আরেকটি কমিটি ঘোষণা করেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, যেখানে সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তাজুল ইসলাম আব্বাস।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় মুফতি বশিরুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কমিটি গঠন ও ঘোষণা করা সাংগঠনিক সম্পাদকের কাজ; তার ঘোষণার পর ফেরদাউসুর রহমান যে কমিটি দিয়েছেন, সেটি করার এখতিয়ার তার আছে বলে মনে হয় না। নেতৃত্বে বিভাজন চলছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি পাল্টা কমিটিকে ‘বিদ্রোহ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, বড় সংগঠনে মান-অভিমান থাকতে পারে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের ঘোষণার পর এভাবে আরেকটি কমিটি দেওয়ার সুযোগ নেই এবং হেফাজতের নীতিমালাও তা সমর্থন করে না।
অপর কমিটিটির সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা প্রসঙ্গে মুফতি বশিরুল্লাহর বক্তব্য, সেটি আদৌ কোনো কমিটি হয়নি; শিগগির কেন্দ্রীয়ভাবে বসে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
অন্যদিকে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের অভিযোগ, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মত উপেক্ষা করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নারায়ণগঞ্জে যারা হেফাজতকে সক্রিয় রেখেছেন এবং বিভিন্ন সময় হামলা, মামলা ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন, তাদের কাউকে না জানিয়ে গোপনে একটি পারিবারিক কমিটি করা হচ্ছিল, তখন তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ হাবিব কর্মসূচি স্থগিত রাখতে সাংগঠনিক সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই নির্দেশনা না মেনে মাহফুজ সাহেবকে ম্যানেজ করে এনে কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নিজের পদ থেকে কমিটি ঘোষণার এখতিয়ার আছে কি না, এ প্রশ্নে ফেরদাউসুর রহমান বলেন, হেফাজতের কোনো সাংগঠনিক কাঠামো বা নীতিমালাই নেই; খবর পেয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে জড়ো হন এবং কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রের কার সঙ্গে কথা হয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি; শুধু জানান, একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ হয়েছে এবং অনুমোদনের দায়িত্ব কেন্দ্রের। তার মতে, নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতিতে সবাইকে নিয়েই কমিটি করা দরকার ছিল, আর বড় পদে থেকেও যারা তা পারেন না, তাদের নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।






