আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু দাবি করেছেন, গত ছয় মাসে সন্ত্রাস দমন, আইনশৃঙ্খলা, বেকারত্ব কিংবা অর্থনৈতিক ঝুঁকি—কোনো ক্ষেত্রেই সরকার বলার মতো সাফল্য দেখাতে পারেনি।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা ছিল সভার আলোচ্য বিষয়।

মঞ্জু বলেন, ক্ষমতায় গেলে ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি শিক্ষিত বেকারের জন্য কাজের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। অথচ গত ছয় মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে শত শত শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, কথা ও কাজে মিল না থাকায় সরকার নতুন কর্মসংস্থানের বদলে বেকার সমস্যাকে দিন দিন আরও তীব্র করছে।

সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একেক সময়ের একেক রকম বক্তব্যে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ নিয়ে মানুষের আস্থা কমছে বলেও মন্তব্য করেন মঞ্জু। তার সতর্কবার্তা, জ্বালানি সংকট দীর্ঘ হলে বেকারত্ব ও দাম আরও বাড়বে, আয়-ব্যয়ের ফারাক বাড়লে জনসমর্থন হারাবে সরকার।

মঞ্জুর ভাষায়, ‘সরকার অজনপ্রিয় হলে ক্রমশ স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে পড়ে।’ তার মতে, তখন সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা থাকে না এবং সুশাসন ও গণতন্ত্র রক্ষায় সরকারের বিরুদ্ধে আবারও গণআন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর আহ্বায়ক গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, সনদ বাস্তবায়নে আপস, সময়ক্ষেপণ বা রাজনৈতিক কৌশলের কোনো সুযোগ নেই; সরকার সরে এলে জনগণ ক্ষমা করবে না। তার দাবি, বিএনপিকে দেওয়া ভোটের পেছনে মানুষের বড় প্রত্যাশা ছিল গণভোটের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন, আর তা রাজনৈতিক ও নৈতিক দিক থেকে সরকারের দায়িত্ব।

কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান নূর, মহানগর সদস্যসচিব সৈয়দ আবুল কাশেম এবং দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানও সভায় বক্তব্য দেন। সঞ্চালনা করেন মহানগর যুগ্ম সদস্যসচিব যায়েদ হাসান চৌধুরী।