জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারকে চাপে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই বক্তব্যের জেরে জেলায় বিক্ষোভ হয়েছে; কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তিনি ক্ষমা না চাইলে জেলায় দলটির কোনো কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না। ফলে শনিবার (২৯ আগস্ট) এনসিপির সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন রাখেন কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। শুরুতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের সময়ের অপরাধের তুলনামূলক হিসাব দেন: তার তথ্যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মাসে গড়ে ২৬০টি হত্যাকাণ্ড হলেও এখন তা ৩১১টি। ছয় মাসের হিসাবে খুনের সংখ্যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ১ হাজার ৭৮০, বর্তমান সরকারের সময় ১ হাজার ৭৮৯।

নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসে ১ হাজার ৯০টি ঘটনার বিপরীতে বর্তমান সরকারের সময়ে ১১ হাজার ১৬৫টি ঘটনার কথা বলেন হাসনাত। তার হিসাবে, গণপিটুনিতে মৃত্যু ১৬৬ থেকে কমে ১২০ জনে নামলেও পুলিশের ওপর হামলা ২৭৫টি থেকে বেড়ে ৩১৭টি হয়েছে।

এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেলাটিকে কালচারাল জেলা বলেছেন এবং সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমা নাকি প্রায় বন্ধ। ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফেরাতে ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন—স্পিকারের মাধ্যমে তা জানতে চান হাসনাত।

জবাবে মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন, না পল্টনের বক্তৃতা বুঝতে পারিনি।’ তার মতে, ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল কি না সেটি এক প্রশ্ন, আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা হল কেন নেই, তা ভিন্ন প্রশ্ন। হাসনাতের দেওয়া হত্যা ও জখমের পরিসংখ্যান কিসের ভিত্তিতে, তা তার জানা নেই বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং তা চোখে পড়ার মতো; বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার কথা জানানো হলে সে বিষয়ে ৩০০ বিধিতে সংসদে বিবৃতি দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এদিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদ্রাসা থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ; বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সমাবেশে বক্তারা হাসনাতের বক্তব্যের সমালোচনা করেন, তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। মিছিলের সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। ঘটনাটি নিয়ে তখন পর্যন্ত এনসিপির কোনো নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি, হাসনাত আবদুল্লাহরও কোনো বক্তব্য মেলেনি।