স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে মজবুত না করে সরকারের পক্ষে প্রত্যাশিত সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, যিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদ শক্তিশালী হলে গ্রামের মানুষের সমস্যা দ্রুত মিটবে, শৃঙ্খলা ফিরবে এবং ধাপে ধাপে এর সুফল উপজেলা ও জেলায় পৌঁছাবে।

বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন শনিবার (২৯ আগস্ট) ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের করণীয়’ শীর্ষক যে আলোচনা সভার আয়োজন করে, সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

আবদুস সালাম বলেন, কয়েকটি গ্রাম মিলে গঠিত ইউনিয়ন পরিষদ দেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি, যেখানে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। এসব পরিষদ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ালে গ্রাম স্বাবলম্বী হবে এবং মানুষের জীবনমান বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

সরকার স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করাকে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে জানিয়ে তিনি স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু করে মাঠপর্যায়ের মানুষকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত করেছিলেন, ফলে গ্রামের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছিল। তার ভাষ্য, সে সময় অর্থনীতি ছিল ভঙ্গুর আর চাষাবাদ অনেকটা বৃষ্টিনির্ভর; পাম্প, সেচ ও খাল খননের উদ্যোগে কৃষি উৎপাদন বাড়ে, খাদ্যচাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানিও সম্ভব হয়।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নানা সমস্যা সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যার সমাধানে সময় লাগবে; জনগণ সহযোগিতা করলে ধীরে ধীরে সব সমস্যা কাটানো যাবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে না দাঁড়ালে সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন, তাই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্যও নানা সুবিধার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা শক্তিশালী হলে গ্রাম ও ইউনিয়নে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং পর্যায়ক্রমে থানা, উপজেলা ও জেলাতেও তার প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেন আবদুস সালাম। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষমতায়ন দেশের জন্য উপকারী হবে জানিয়ে তিনি তাদের সংগঠন আরও মজবুত করা, মানুষের পাশে থাকা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান।

চেয়ারম্যান-মেম্বাররা রাষ্ট্রপতি ও প্রতিমন্ত্রীর কাছেও তাদের দাবিগুলো জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সভায় তোলা সমস্যাগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এবং প্রয়োজনীয় সব জায়গায় তুলে ধরার চেষ্টা করবেন। সভায় অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল (বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা), হুমায়ুন কবীর বেপারী (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি) এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।