পারিবারিক পর্যায়ে নৈতিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন নুরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে মহিলা বিভাগ আয়োজিত ‘সামাজিক সমস্যা : উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর আইন না মানলে পরিবারে নারী নির্যাতন যেমন বাড়ে, পুরুষ নির্যাতনও ব্যাপক হারে হয়।’ মিথ্যা আভিজাত্য ছেড়ে নৈতিক প্রশিক্ষণের পথে সমাজের সমস্যাগুলো দূর করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারের উদ্বোধন ঘোষণা করেন খন্দকার আয়েশা সিদ্দিকা, যিনি মহিলা বিভাগের সমাজকল্যাণ বিভাগীয় সেক্রেটারি; মূল প্রবন্ধ পড়েন সাইকোসোস্যাল কাউন্সিলর নাসিমা বেগম ঝুনু, যিনি ময়মনসিংহ সরকারি কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক। নানা সামাজিক সংকট নিয়ে আলোচনা করেন প্রফেসর ড. নাঈমা মোয়াজ্জেম, ড. সিরাজুম মুনীরা, ডা. আমেনা শফিক ও ড. শামীমা তাসনিম; মারজিয়া বেগম এমপি এবং মহিলা বিভাগীয় সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মানও বক্তব্য দেন।
সেমিনারে সামাজিক সংকট উত্তরণে ১২টি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক পড়াশোনার সঙ্গে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা চালু, নারী, শিশু ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, তরুণদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতা বাড়িয়ে নারী-পুরুষ উভয়ের বেকারত্ব কমানো এবং ছোট-মাঝারি উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো। নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক, বাল্যবিবাহ ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চনার মতো অপরাধে আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের দাবিও জানানো হয়।
কিশোর অপরাধ, মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসে জড়িতদের রাজনৈতিক আশ্রয় থেকে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা এবং সমকামিতা, ট্রান্সজেন্ডারে রূপান্তর, পরকীয়া ও ধর্ষণসহ যৌন অনাচার কঠোর আইন প্রয়োগে বন্ধের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। অভিভাবকদের জন্য প্যারেন্টিং প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা গঠনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, কিশোর গ্যাংয়ের বিকল্প হিসেবে তরুণদের সাংস্কৃতিক, খেলাধুলা ও সেবামূলক কাজে যুক্ত করা এবং ডিভাইসনির্ভর ব্যস্ততা কমিয়ে পারিবারিক বন্ধন জোরদারের কথাও প্রস্তাবনায় আছে।
এ ছাড়া বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও রাষ্ট্রের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং ধর্মীয় সচেতনতা বাড়িয়ে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সরকার ও জনগণের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয় সেমিনার থেকে।






