জনগণের সঙ্গে সরকার ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে এবং ওয়াদা দিয়ে তা ভঙ্গ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জনগণ সরকারকে ক্ষমা করবে না মন্তব্য করে তিনি জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথে থাকবেন।

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। ছয় দফা দাবিতে লংমার্চটি সেদিন সকালে রাজধানী থেকে যাত্রা করে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলসহ কয়েকটি স্থানে পথসভা শেষে কুমিল্লায় পৌঁছায় এবং পরে চট্টগ্রামের পথে রওনা দেয়।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই সড়কে তাঁদের সঙ্গীরা রক্ত ঝরিয়েছিলেন, কিন্তু সেই দাবি আজও পূরণ হয়নি; দাবি আদায় করেই তাঁরা ঘরে ফিরবেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, মানুষের ঘরে গ্যাস ফিরিয়ে দেওয়া এবং বিদ্যুতের বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করতেই তাঁদের রাস্তায় নামা বলে জানান তিনি।

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিশ্চিত সরবরাহের দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের এই মৌলিক দাবিগুলো পূরণ না হলে সরকার ক্ষমতায় টিকতে পারবে না। গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিও তোলেন তিনি।

এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায় কার্যকরের দাবি জানান; এ রায় আপনা-আপনি বাস্তবায়িত না হলে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের মতে, মানুষের ভাগ্য বদল এবং দেশকে সঠিক গন্তব্যে নিতে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে; এই লংমার্চ দিয়েই চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলো বলে জানান তিনি।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য কাজী দ্বীন মোহাম্মদ; সঞ্চালনায় ছিলেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমান। বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ পার্টি ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাদের পাশাপাশি জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকেরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।