স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠন করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তির যে বিল সংসদে পাস হয়েছে, সেটিকে ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। পাবনা-২ আসনের এই সংসদ সদস্যের দাবি, নাম ও সাইনবোর্ড ছাড়া বাহিনীটির পুরোনো কাঠামোয় কার্যত কোনো বদল আসছে না।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এসআরবি বিল-২০২৬ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে র্যাবের জনবল, সম্পদ, কার্যালয়, নথিপত্র, ক্ষমতা, চুক্তি এবং দায়-দায়িত্ব সরাসরি নতুন বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিলের ২৭ ধারার কথা উল্লেখ করে তার মন্তব্য, র্যাবের নামটুকু ছাড়া আর কিছুই বদলাচ্ছে না। এভাবে আগের কাঠামো টিকিয়ে রাখলে গুমসহ নানা অপরাধের মামলা ও তদন্ত ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বক্তব্যে নাজিবুর রহমান মোমেন স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের পর বেগম খালেদা জিয়া র্যাবকে কিলিং স্কোয়াড আখ্যা দিয়ে সংস্কার নয়, সরাসরি বাহিনীটির বিলুপ্তি চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য, ২০১৯ সালে খালেদা জিয়া র্যাবকে ক্যানসার বলে অভিহিত করে আবারও একই দাবি তোলেন এবং বিএনপিও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে র্যাব বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক সুপারিশ জমা দেয় পুলিশ সংস্কার কমিশনে। জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং গুম কমিশনও একই সুপারিশ করেছিল বলে জানান তিনি।
বিলে জবাবদিহির যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেটিকেও অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন এই জামায়াত নেতা। তার ব্যাখ্যা, এসআরবির বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখার কমিটির প্রধান হবেন বাহিনীটিরই একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক, সাচিবিক দায়িত্বে থাকবেন একজন পরিচালক; অর্থাৎ যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের লোকই সেই অভিযোগ যাচাই করবেন।
পুলিশের কোনো থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটের তদারকিতে তদন্ত হয়, অথচ এসআরবি বিলে সেটুকুও রাখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাদের প্রস্তাব ছিল, তদন্তের দায়িত্ব বাহিনীর বাইরের স্বাধীন ব্যক্তিদের হাতে দেওয়া, যেখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, ফৌজদারি আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা থাকবেন।
সংসদীয় কমিটির কাছে এসব আপত্তি লিখিত আকারে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বিলের মূল কাঠামোয় তার প্রতিফলন ঘটেনি বলে অভিযোগ করেন নাজিবুর রহমান মোমেন। দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একটি দক্ষ বিশেষায়িত বাহিনীর বিপক্ষে তারা নন; কিন্তু প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থা ঠিক না করে শুধু সাইনবোর্ড পাল্টালে উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
এর আগে বৃহস্পতিবারই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সুপারিশসহ বিলটি বিবেচনার প্রস্তাবে বিকেলে মত নেওয়ার পর তা পাস হয় এবং বিভিন্ন দফার সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলে।






