মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, মেয়র, মন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্য—কোনো পদে থাকুন বা না থাকুন, সারা জীবন তিনি মানুষের জন্য রাজনীতি করে যাবেন। তার মতে, পদ ক্ষণস্থায়ী; মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এবং তাদের ভালোবাসা ধরে রাখাই স্থায়ী। অনুষ্ঠানে নেতারা তাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চান বলে মন্তব্য করলে তিনি এ কথা বলেন।
দয়াগঞ্জের সুইপার কলোনিতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গণেশ পূজার অনুষ্ঠানে বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শহরের পরিবেশ ঠিক রাখতে ও ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে এখানকার মানুষ বড় ভূমিকা রাখেন, তাই প্রত্যেক নগরবাসীর তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কলোনির মন্দির নির্মাণের পুরোনো প্রতিশ্রুতি আবারও দিয়ে তিনি জানান, বিষয়টি তার সামর্থ্যের মধ্যে এলেই মন্দির গড়ে দেবেন; কাজ শুরুর জন্য কিছু অনুদান আনার চেষ্টা করবেন, আর কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এখনকার বরাদ্দে কাজ শুরু করা গেলে বাকিটাও হয়ে যাবে বলে তার আশা।
ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তিনি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিশ্বাস করেন। তার ভাষ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শ অনুযায়ী দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান নাগরিক এবং সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হবে; এ দেশ সবার, কোনো নাগরিককে রক্তচক্ষু দেখানোর প্রশ্নই আসে না।
চলমান গ্যাস সংকটের জন্য বিএনপি সরকার দায়ী নয় বলে দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য, বিগত ১৭ বছরের লুটপাটের উত্তরাধিকার হিসেবে এ পরিস্থিতি এসেছে, পরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। প্রতিটি সমস্যার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কিছুটা সময় চেয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে উদ্যোগ ও নীতিমালা নিয়েছেন, তবে এক রাতে সব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ বিল মওকুফের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আগে বিস্তারিত জেনে কোন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কীভাবে এগোনো যায়, তা ঠিক করবেন এবং মওকুফের জন্য শতভাগ চেষ্টা করবেন; প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার কক্ষের সামনে মাটিতে বসে থাকবেন। ‘আপনারাই আমাকে বানিয়েছেন এমপি’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের জন্য এটুকু করতে না পারলে তার রাজনীতি করারই প্রয়োজন নেই।
স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা অনুষ্ঠানে ছিলেন; তাদের মধ্যে ছিলেন মকবুল ইসলাম টিপু (ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক) ও অপু ঢালী (গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির সদস্য সচিব)।






