সহস্রাধিক গাড়ির বহর নিয়ে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য, যার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ওই দিন সকাল ৭টায় মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সমাবেশের পর ৮টায় টঙ্গী, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল হয়ে বহরটি রংপুরের দিকে রওনা দেবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক এই কর্মসূচিতে যেন বাধা দেওয়া না হয়, সে জন্য সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান তিনি।

জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, যে কোনো উসকানির মুখেও চরম ধৈর্য ও সংযম দেখাতে হবে; কেউ আঘাত পেলেও প্রতিশোধ না নিয়ে কর্মসূচি সফল করাতেই সার্থকতা। তিনি বলেন, ‘আমরা কারও উসকানিতে পা দেব না।’ বিএনপি, ক্ষমতাসীন দল, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, ট্রাফিক বিভাগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদেরও সহযোগিতা চান তিনি।

হাজারো মানুষ ও সহস্রাধিক গাড়ির এই বহরের কারণে দৈনন্দিন কাজ, ব্যবসা ও যান চলাচলে ভোগান্তি হতে পারে স্বীকার করে আগাম দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বরাবরই কষ্ট মেনে নিয়েছে; চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে দেশবাসী ও প্রশাসন যে উদাহরণ রেখেছে, রংপুরের ক্ষেত্রেও তেমন সহযোগিতা আশা করেন তিনি।

প্রস্তুতির বিবরণ দিয়ে গোলাম পরওয়ার জানান, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে রংপুর পর্যন্ত পথে মোট সাতটি জনসভা ও পাঁচটি পথসভা হবে; এ জন্য আট-দশ দিন ধরে মহাসড়ক-সংলগ্ন শাখার আমির, ইসলামী ছাত্রশিবির ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওই শাখাগুলোর নেতাদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকের কথা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, জনগণ, রাজনৈতিক দল এমনকি প্রশাসনের সহযোগিতাও তারা পেয়েছেন।

দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ছয় দফা ছিল; রংপুর লংমার্চ ঘোষণার সময় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব নিয়ে সপ্তম দফা যোগ হয়। বৃহস্পতিবার বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের কোটি কোটি মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়, ফলে দাবি এখন আট দফা।

রংপুর পর্যন্ত গোটা উত্তরবঙ্গে এই বার্তা পৌঁছে গেছে এবং সেখানকার মানুষ উল্লসিত বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের দ্বিধা কাটিয়ে কূটনৈতিক ও সরকারি সব পদক্ষেপ দ্রুত শুরুর আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। চট্টগ্রামের লংমার্চের চেয়ে এবার আরও বেশি সাড়া মিলছে দাবি করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রংপুর অভিমুখী লংমার্চ আগেরটির চেয়েও ব্যাপকভাবে সফল হবে।