শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, শিক্ষিত বেকারদের ভাতা এবং কওমি মাদ্রাসা সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নসহ ১৩ দফা শিক্ষা দাবি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস। রাজধানীর শাহবাগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সংগঠনটির ‘জাতীয় ছাত্র কনভেনশন’ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে আছে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে কোরআনসহ ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, ক্যাম্পাসে ধর্মচর্চার সুযোগ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সেশনজট দূর করা এবং নিয়োগ-পরীক্ষায় দুর্নীতি বন্ধ করে মেধার মূল্যায়ন। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল দখল, সিট বাণিজ্য ও র‌্যাগিং বন্ধের কথাও আছে তালিকায়।

শিক্ষা উপকরণ ও ফির দাম কমানো, বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসন, পর্যাপ্ত শিক্ষক, ছাত্রীদের জন্য আলাদা শিফট, গরিব শিক্ষার্থীদের সুদমুক্ত ঋণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, সব ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান বাড়ানোর দাবিও তোলা হয়। পাঠ্যবই থেকে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী লেখা সরানোর দাবিও জানায় সংগঠনটি।

প্রধান অতিথি খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে শিক্ষার মান, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও বেকারত্ব সমস্যাকে সরকারের অগ্রাধিকারে রাখার আহ্বান জানান। তার অভিযোগ, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক ইসলামী শিক্ষার ঘাটতি রয়েছে, বহুধারার শিক্ষা জাতীয় ঐক্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং শিক্ষা নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে।

নতুন প্রজন্মের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের তাগিদও দেন তিনি। সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন, সঞ্চালনায় ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকির। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন আরমানের বড় ভাই মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান; আরমান ছিলেন সংগঠনের প্রথম শহীদ।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরসহ দলের নেতা, শিক্ষক ও আলেমরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।