নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের যে সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে; চলতি বছর এ ভোট হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থিত কয়েকজনের মত, আগামী জানুয়ারি থেকে ইউপি ভোট শুরু করাই ভালো হবে। প্রস্তুতির জন্য কত দিন দরকার, সেটি জানাতে এক মাস সময় চেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সভার আলোচ্য ছিল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন এবং সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন সভায় সভাপতিত্ব করেন; দুপুর আড়াইটার পর শুরু হওয়া বৈঠক বিকেল ৪টা পর্যন্ত গড়ায়, যেখানে চার নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন ও শিক্ষা সচিব, আইজিপি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ছিলেন। এর আগে গত রোববার ও সোমবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইসি সাত ধাপে ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করে—১২ নভেম্বর, ১৩ ডিসেম্বর, ৩০ ডিসেম্বর এবং আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে; সবচেয়ে বেশি ইউপি রাখা হয় দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে, আর বলা হয়েছিল সময়সীমা চূড়ান্ত হবে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ভোটের সুবিধাজনক সময় জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নভেম্বর বা ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি তাদের নেই এবং কত দিনে প্রস্তুত হওয়া যাবে, তা জানাতে এক মাস লাগতে পারে। সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার আগে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে নেওয়া উচিত ছিল বলেও মত দেন তিনি। জবাবে সিইসি বলেন, এটি একেবারেই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত; তবে সময় ঠিক করতে গিয়ে প্রতিটি ধাপের মধ্যে অন্তত ১৫ দিনের ব্যবধান রাখার বিষয়টি মাথায় রাখতে বলেন তিনি।

জনপ্রশাসন সচিব অর্থ বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন রাখেন, অর্থ সচিব সভায় আসেননি, তাহলে সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কীভাবে। আরেক সচিব বন্যার ধাক্কা এখনো না কাটা, ভোটের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক ও বৃত্তিসহ নানা পরীক্ষার কথা তুলে ধরে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হলে পরীক্ষা ব্যাহত হতে পারে, তাই ওই সময়ে ভোট সম্ভব নয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জানান, নভেম্বরে একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল আসবে এবং ডিসেম্বর জুড়ে শিক্ষার মান নিয়ে কাজ চলবে, তাতে সব শিক্ষক ব্যস্ত থাকবেন।

আইজিপি বিভিন্ন দিবসের কথা উল্লেখ করে বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে পুলিশ ব্যস্ত থাকবে, জানুয়ারি থেকে ভোট হলে বাহিনীর জন্য সুবিধা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বাহিনীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শেষ হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত লাগবে; স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বুধবার থেকে সারা দেশে পুলিশের এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। সভায় একজন নির্বাচন কমিশনার কমিশনের ভাবমূর্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, সম্ভাব্য তারিখ তো ঘোষণা হয়ে গেছে।

সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, হাতে সময়ের ফাঁক খুবই কম, তাই সবকিছু মিলিয়ে নিতে আরও কিছু কাজ বাকি; নভেম্বর-ডিসেম্বর জুড়ে পরীক্ষা, জানুয়ারিতে কিছুটা সময় মেলে, এরপর রোজা ও এসএসসি, আর এসএসসি শেষে ৬ জুন এইচএসসি শুরুর আগেও কিছু সময় পাওয়া যাচ্ছে। ঘোষিত সম্ভাব্য সূচি থেকে ইসি সরে এসেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মোটেও না।’ তার ভাষ্য, আগামী বছরের ৬ জুনের আগে ভোট শেষ করতে সভায় সবাই একমত হয়েছেন।

সানাউল্লাহ বলেন, সূচিটিকে শুরুতেই অস্থায়ী এবং প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার ভিত্তিতে তৈরি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, ১৭ সেপ্টেম্বরের সভার পর তা চূড়ান্ত করার কথাও বলা হয়েছিল; এখন পাওয়া মতামত নিয়ে কমিশনে বসে চূড়ান্ত করা হবে, আর অন্য স্থানীয় নির্বাচনগুলো আইন অনুযায়ী প্রয়োজনমতো সময়ে হবে। ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনী ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে ভোটকেন্দ্রগুলোর সিসি ক্যামেরার তথ্য ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইসি সচিবালয়ে পাঠাতে বৃহস্পতিবার মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।