দেশজুড়ে মানুষের মনে এখন আতঙ্ক, জননিরাপত্তা নেই—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। রংপুর জেলা স্কুল মাঠে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে তিনি বলেন, শিশু কিংবা মা-বোন—কারও নিরাপত্তা নেই।
নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, কেন এই নিরাপত্তাহীনতা আর কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হচ্ছেন। তার অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জবাবদিহি করছেন না, বরং জবাব চাইলে ক্ষুব্ধ হয়ে নানাভাবে হুমকি দেন। গুম আইনের মাধ্যমে গুমের পথ তৈরি করা হয়েছে এবং বিরোধী দলকে দমাতে আবার পুলিশকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ চেষ্টা সফল হবে না মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, দেশের ছাত্র-জনতা আর কাউকে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে দেবে না; কেউ সে পথে হাঁটলে রংপুর থেকেই প্রথম বিদ্রোহ ও বিপ্লবের ডাক আসবে। জুলাই গণহত্যার একটি মামলার রায়ের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রায় ও মৃত্যুদণ্ড কেবল দেশের বাইরে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধেই আসছে; দেশে থাকা আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং তা কার্যকর হতে দেখতে চান তারা।
দেশজুড়ে নজিরবিহীন দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সব প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ চলছে, আর চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে দেশের ক্যাম্পাস ও নানা এলাকা সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্যই আট দফা নিয়ে মাঠে নামার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের মতো মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দাবি আদায় করেই তারা ঘরে ফিরবেন।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ কৃষিকাজ করে সংসার চালান, অথচ তারা এখন সার, গ্যাস, বিদ্যুৎ কোনোটাই পাচ্ছেন না। বিভিন্ন জায়গায় জোটের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন অভিযোগ করে তিনি জানান, সিরাজগঞ্জে একজন নেতাকর্মীকে হামলা চালিয়ে আহত করার খবর তার কাছে এসেছে। খবরটি সত্য হলে রাজপথে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জোটের কারও গায়ে হাত পড়লে ‘পাল্টা আঘাতের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। সরকারকেও প্রস্তুত থাকতে হবে।’
রংপুরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নাহিদ বলেন, বিরোধী দলকে ভোট দেওয়ায় রংপুর উন্নয়ন বরাদ্দ পাবে না—এখানকার মানুষকে এখন এমন কথাও শুনতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য আট দফায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি বিশেষভাবে রাখা হয়েছে এবং তারা এর বাস্তব রূপ দেখতে চান। সবার আগে বাংলাদেশ—সরকারের এ স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, দিল্লির সঙ্গে দর-কষাকষি কিংবা ভূরাজনীতিতে জাতীয় স্বার্থ আদায়ে সরকার ব্যর্থ, এবং তার মতে সরকার দেশের নয়, দলের স্বার্থ হাসিলের জন্যই ক্ষমতায় গেছে।
জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস-সার সংকটের সমাধান, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারি ও সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্য এ লংমার্চের আয়োজন করে; আয়োজকদের ভাষায় এটি জোটের দ্বিতীয় বড় লংমার্চ, এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর হয়েছিল ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ। সমাপনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম; বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (এলডিপির চেয়ারম্যান), মজিবুর রহমান মঞ্জু (এবি পার্টির চেয়ারম্যান), এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং সিবগাতুল্লাহ সিবগা (ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি)সহ জোটের নেতারা।






