দেশের তরুণদের রাজনীতিতে কেবল দর্শকের ভূমিকায় না থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাকসুর (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ) সাবেক ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের বিকাশে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা তৈরির উপযোগী পরিবেশ গড়ার সময় এখনই। নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে তরুণদের কার্যকর উপস্থিতিও জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
জাকসুর ভিপির দায়িত্বকে নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষণীয় অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন জিতু। তিনি জানান, এ সময় হাজারো শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা, সমস্যা, অধিকার ও স্বপ্ন কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে, কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কাজও করা গেছে; তবে সীমাবদ্ধতা আর চ্যালেঞ্জও কম ছিল না, সব প্রত্যাশা পূরণ করা যায়নি। তার ভাষায়, ‘জাকসুর অধ্যায় শেষ হয়েছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার যাত্রা অব্যাহত থাকবে।’
জিতুর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় আসলে বৃহত্তর সমাজেরই প্রতিচ্ছবি; শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের বহু সমস্যার শিকড় রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার গভীরে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার কিংবা তরুণদের ভবিষ্যতের মতো প্রশ্ন ক্যাম্পাসের গণ্ডিতে আটকে নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাকসুতে মানুষের কথা শোনা ও সমস্যা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা বড় পরিসরে কাজে লাগাতে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বলেও জানান তিনি।
তরুণদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা উল্লেখ করে জিতু বলেন, তাদের চিন্তা, মেধা, গবেষণা, প্রযুক্তিজ্ঞান ও সৃজনশীলতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত করা দরকার। অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল প্রযুক্তি দ্রুত কর্মক্ষেত্রের চেহারা বদলে দিচ্ছে বলে তরুণদের সেভাবে দক্ষ করে তোলার তাগিদ দেন তিনি। চাকরিপ্রার্থী নয়, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরির ওপরও জোর দেন তিনি, যাতে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং বা রিমোট ওয়ার্কের সুবাদে গ্রাম বা জেলা শহরে বসেই কেউ দেশি-বিদেশি বাজারে কাজ পেতে পারেন।
রাজনীতিতে মানুষের আস্থা ফেরাতে কথা ও কাজের মিলকে প্রথম শর্ত হিসেবে দেখেন জিতু। তার মতে, শুধু প্রতিশ্রুতিতে আস্থা মেলে না; মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের কথা শোনা এবং নিজের কাজের জবাবদিহি করা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা, শালীনতা ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মতপার্থক্য যেন ব্যক্তিগত বৈরিতায় না গড়ায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন তিনি।
জিতু মনে করেন, রাজনীতির ভাষায় যুক্তি, দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণের প্রাধান্য থাকা উচিত; মানুষকে ব্যবহার না করে সঙ্গে নিয়ে এগোনোর সংস্কৃতিতে তিনি বিশ্বাস করেন। রাজনীতি মানুষের সমস্যার সমাধান দিতে না পারলে তার ওপর ভরসা জন্মানো কঠিন, তাই কাজের মধ্য দিয়ে আস্থা অর্জনকেই সবচেয়ে বড় বিষয় মনে করেন তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে না নিয়ে তা বোঝা, প্রশ্ন তোলা ও নিজস্ব মত গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং দেশের ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত কেবল অন্যদের হাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন। সাধারণ মানুষকে তিনি যেকোনো রাজনীতিককে কথার বদলে কাজ, আচরণ ও জবাবদিহি দিয়ে বিচার করতে বলেন। জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখাকে মানুষের জন্য বড় পরিসরে কাজের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বলে জানান তিনি।






