নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাউসারের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে দাবি করে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দৃশ্যটি নীলফামারীর নয়, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার এক অভিযুক্তের বাড়িতে ২৬ সেপ্টেম্বর আগুন দেওয়ার ঘটনার।

গফরগাঁওয়ে এক মাকে তার নবম শ্রেণিপড়ুয়া সন্তানকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। গত ২২ সেপ্টেম্বর ওই মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে প্রথমে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়, পরে আরও ৩ আসামির বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়; ২৬ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসী আরেক অভিযুক্তের বাড়িতেও আগুন দেন।

রংধনু টিভি নামের একটি ফেসবুক পেজে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। পোস্টের বর্ণনায় বলা হয়, সন্তানের সামনে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৪ আসামির ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছেন গফরগাঁওয়ের এলাকাবাসী।

পেজটির পরিচালক স্থানীয় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে ২২ ও ২৬ সেপ্টেম্বর দুই দফায় আগুন দেওয়া হয়েছিল, আর ভিডিওটি ২৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনার। একই কথা জানিয়ে যুগান্তরের গফরগাঁও প্রতিনিধি তোফাজ্জল বলেন, সেদিন অভিযুক্ত এনামুলের বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়।

ডেইলি স্টারের ওয়েবসাইটে ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর হয়, যার অবস্থান চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায়। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফাহিম, রাজিব ও এনামুল নামে একই মামলার আরও তিন আসামির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে নীলফামারীতে আব্দুল কাউসার নামের কোনো আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। একাত্তর টিভির নীলফামারী প্রতিনিধি বিজয় চন্দ্র চক্রবর্তীও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এ নামের কোনো আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুনের ঘটনা ঘটেনি। ফলে গফরগাঁওয়ের দৃশ্যকে নীলফামারীর ঘটনা বলে ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে।