হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বিমানবন্দর থানায়।

এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে মদিনা থেকে ৩৪ জন যাত্রী ঢাকায় নামেন। ভিড়ের কারণে ৮ নম্বর বেল্টের কাছে ট্রলির সাময়িক ঘাটতি ও লাগেজ পেতে দেরি হলে কিছু যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়, তখন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে ডাকেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন (ঢাকা-৫)।

এজাহার অনুযায়ী, নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গিয়ে উত্তেজনা থামানোর চেষ্টা করলে আখতারুজ্জামান মারমুখী হয়ে তার দিকে এগিয়ে যান, গালাগাল করেন এবং ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’ বলে শাসান। বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীকে নিয়েও তিনি অশোভন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।

সংরক্ষিত এলাকায় তার প্রটোকল সহকারীরা মোবাইলে ভিডিও করছিলেন; দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান তাকে গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে আঘাতের ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

বাদী মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বিমানবন্দরের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা; তার অভিযোগ, ঘটনাটির সময় কেপিআইভুক্ত এলাকায় শৃঙ্খলা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ এবং যাত্রীদের ট্রলি থেকে জমজমের পানিভর্তি বোতল ছুড়ে ফেলার অভিযোগও আনা হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা তদন্তে নির্ধারিত হবে। এজাহারেই বলা আছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে আঘাতের ঘটনাটি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি; পুলিশ জানিয়েছে, ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত হবে।

২ অক্টোবর রুজু হওয়া মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩ এবং ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারা অনুযায়ী সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, ভয় দেখানো, হুমকি, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ ও ইচ্ছাকৃত অপমানের অভিযোগ আনা হয়েছে। জানা যায়, আখতারুজ্জামান আগে বিএনপিতে ছিলেন এবং দলের শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগে নানা সময়ে মোট পাঁচবার বহিষ্কৃত হন। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বিমানবন্দরের ঘটনাকে তার আগের বিতর্কিত আচরণেরই ধারাবাহিকতা মনে করছেন।