সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকট ঘিরে বিশৃঙ্খলা তৈরি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে যায়।

গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দেন। দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে তিনি বলেন, ডিবি পুলিশ এ মুহূর্তে তাকে নিয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে রাখছেন। জনগণ ও বিশেষত প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় শহীদ হতে পারলে আল্লাহ যেন তা কবুল করেন, সে জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের জন্য এই জীবন ত্যাগ করব।’

এর আগে শুক্রবার দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় বিমানবন্দর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব। এতে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছনার অভিযোগ আনা হয়।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ১ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে BG-338 ফ্লাইটটি মদিনা থেকে ঢাকায় নামার পর যাত্রীদের ভিড়ে ৮ নম্বর বেল্টে ট্রলির ঘাটতি দেখা দেয়, লাগেজ পেতেও দেরি হয়। যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের (ঢাকা-৫) অনুরোধে বিমানবন্দরটির নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে আসেন।

এজাহারে বলা হয়, নির্বাহী পরিচালক শান্তভাবে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন আখতারুজ্জামান হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে তার দিকে তেড়ে যান, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং মারধর ও ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীকে নিয়েও তিনি চরম অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।

এজাহারে আরও বলা হয়, সংরক্ষিত (KPI) এলাকায় আখতারুজ্জামানের প্রটোকল সহকারীরা মোবাইলে ভিডিও করতে থাকলে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বাধা দেন; এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান তাকে গালমন্দ করেন এবং একসময় তার গায়ে হাত তোলেন। অন্য যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

বাদীর দাবি, এমন আচরণে সংবেদনশীল ও সুরক্ষিত একটি স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে বাধার মুখে পড়েন এবং বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। পুলিশ দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩ এবং ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি রুজু করেছে, যাতে ভয়ভীতি দেখানো, ইচ্ছাকৃত অপমান, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ এবং সরকারি কাজে বাধার অভিযোগ রয়েছে।