সৌদি আরবগামী যাত্রী এবং দেশটিতে কাজে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি এ দাবি তোলেন।

পোস্টে তিনি জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি ও নানা বিধিনিষেধের কারণে ঢাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার ৩৬টি সরাসরি আর ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এতে সব মিলিয়ে ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শফিকুর রহমানের ভাষ্য, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ও ট্রানজিট পথে চলা বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ৬১টি ফ্লাইট সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে; এর কয়েকটি বাতিল, কয়েকটি স্থগিত। ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ পরিস্থিতিতে প্রবাসী কর্মজীবীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি লেখেন, কেউ নতুন কাজে যোগ দিতে, কেউ ব্যবসার প্রয়োজনে, আবার অনেকে ওমরা পালনের জন্য যাত্রার সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছিলেন। বিশেষ করে চাকরি নিয়ে যাঁরা যাচ্ছেন, সময়মতো যোগ দিতে না পারলে তাঁদের চাকরি হারানো, নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তির জটিলতা, ভিসার মেয়াদ নিয়ে সমস্যা ও আর্থিক লোকসানের ঝুঁকি আছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

বিষয়টিকে কেবল যাতায়াতের অসুবিধা হিসেবে না দেখে বহু পরিবারের রুটিরুজির প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনার কথা বলেন শফিকুর রহমান। পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে দ্রুত কূটনৈতিক যোগাযোগ করে কর্মীদের যোগদানের সময় বাড়ানোসহ দরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অনুমতি সাপেক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ বা সাময়িক বন্ধ বিমানবন্দরের বদলে দেশটির অপেক্ষাকৃত নিরাপদ কোনো বিমানবন্দর কিংবা বিকল্প পথে যাত্রীদের গন্তব্যে নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখারও পরামর্শ দেন বিরোধীদলীয় নেতা। এ জন্য যাত্রীদের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে বিকল্প ফ্লাইট, নতুন টিকিট ও যাত্রাসহায়তার ব্যবস্থা করার কথা বলেন তিনি।

পোস্টের শেষ অংশে তিনি সতর্ক করেন, এ সংকটে সামান্য গাফিলতি বা সিদ্ধান্তে অহেতুক দেরি হলে যাত্রী ও তাঁদের পরিবারের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। প্রবাসী আয় ও কর্মসংস্থানের গুরুত্ব মাথায় রেখে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান তিনি।