যাত্রী আর স্বজনের ভিড়ে সারা বছর ঠাসা থাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি মানুষ এখানে আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে সৌদি আরবের কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে দেশটির ফ্লাইট এখন স্থগিত, ফলে সেই চেনা ভিড় অনেকটাই কমে এসেছে।
বিমানবন্দরের কর্মীদের হিসাবে, শাহজালাল দিয়ে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করেন, যার ৪ থেকে ৫ হাজারই সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী। তাঁদের বিদায় জানাতে আসেন দ্বিগুণ বা তারও বেশি স্বজন। রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় সেই ভিড় এখন আর চোখে পড়ছে না।
গত শনিবার হুতিদের হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী ঢাকার ফ্লাইটগুলো বন্ধ হয়ে যায়; এরপর একে একে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইটও স্থগিত করে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত ১০টি এয়ারলাইন্সের ৮৩টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয় এবং নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেননি ১৩ হাজার ৭১ যাত্রী। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদ ও দাম্মামের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে, আর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত।
কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ফ্লাইট বাতিল শুরু হলেও পরের কয়েক দিন যাত্রী ও স্বজনেরা বিমানবন্দরে ভিড় করেছেন; সোমবারও হাজারো মানুষ অনিশ্চয়তা নিয়ে অপেক্ষা করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। কর্তৃপক্ষের নানা পদক্ষেপে মঙ্গলবার থেকে বহির্গমন টার্মিনালে সৌদিগামী যাত্রীর চাপ কমেছে, কারণ বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত হালনাগাদ পেয়ে যাত্রীরা বাড়ি ফিরে গেছেন।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে থাকা গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীম সামাদ পরিস্থিতি সামাল দিতে এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে লিখিত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা সূচি বদলের খবর এসএমএস, ফোনকল, ইমেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাত্রীদের জানাতে হবে; নতুন সময়সূচি, পুনরায় বুকিং ও টাকা ফেরতের বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য দিতে হবে এবং ফ্লাইট নিশ্চিত না হলে যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসতে নিরুৎসাহিত করতে হবে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা অভিবাসন-সহায়তার প্রয়োজনে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও ঢাকার সৌদি দূতাবাসে যোগাযোগের পরামর্শও যাত্রীদের দিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, যাঁরা আগেই বিমানবন্দরে চলে এসেছেন, তাঁদের বসার জায়গা, খাবার পানি ও হালকা খাবার দিতে হবে; বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিতে থাকা যাত্রীদের দিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে এবং কাউকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা চলবে না। প্রতিটি এয়ারলাইন্সকে একজন প্রতিনিধি ঠিক করে তাঁর নাম, পদবি, ফোন নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা দ্রুত বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে; অবস্থা স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত ওই প্রতিনিধি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যাত্রীদের সহায়তা করবেন।
বেবিচকের হিসাবে, শনিবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে চার দিনে নানা এয়ারলাইন্সের মোট ৮২টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে, এর ৩২টি সরাসরি ও ৫০টি ট্রানজিট। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান ও ইউএস-বাংলার ১০টি করে, সাউদিয়ার পাঁচটি ও রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং ট্রানজিটে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি করে, সালাম এয়ারের চারটি ও ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানায়, রিয়াদের পাশাপাশি দাম্মামের সরাসরি ফ্লাইটও ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে; জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন এবং টিকিটের তথ্যের জন্য কাছের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।






