আব্দুল্লাহ আল জহির পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স)। তিনি যে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন, সেখানে মাসে ২০-২২টি ডিজে পার্টি বসত বলে বুধবার (২১ অক্টোবর) জানিয়েছেন ইলিয়াস কবির, যিনি ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি)।
তার তথ্যমতে, আয়োজনগুলো চলছিল ২০২৫ সাল থেকে। এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামে দুটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পার্টির ব্যবস্থা হতো, অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে নিবন্ধন করে যোগ দিতেন এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে একেকটি আয়োজনে নেওয়া হতো ৬০০ টাকার মতো; বাড়ি ভাড়া বাবদ টাকা লেনদেনের তথ্যও মিলেছে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া গোপন তথ্যে চালানো অভিযানে ভবনে ঢুকে পুলিশ ডিজে পার্টি চলতে দেখে; সেখানে ২২টির মতো গাড়ি রাখা ছিল, ভেতরে জোরে গান চলছিল এবং সিসার ধোঁয়ায় চারপাশ আচ্ছন্ন ছিল। পুলিশ ঢুকতেই পার্টি থেমে যায় এবং উপস্থিত লোকজন ভবনের পাঁচটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়েন।
ইলিয়াস কবিরের দাবি, পার্টিতে আসা তরুণ-তরুণীদের কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কেউ ব্যাংকার। তিনি জানান, উপস্থিত ২৬ তরুণীর বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ২২ বছর, যাদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও ছিলেন।
অভিযানে তিনটি মদের বোতল, ইয়াবা, কুশ নামের একটি মাদক এবং যৌনস্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে জানান তিনি। আটক ছেলেদের এক মাস জেল আর এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, টাকা না দিলে আরও ১৫ দিন কারাভোগ করতে হবে; মেয়েদের ক্ষেত্রে সাজা ১৫ দিন জেল আর ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন দিন।






