দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনে (কোমানি) একটি সুপারশপে অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোররাতে আগুন লাগে সুপারশপটিতে, যার মালিক আলীরটেক ইউনিয়নের বাসিন্দা রওশন আলীর পরিবার।

নিহতদের পাঁচজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়নে, একজনের মুন্সীগঞ্জে। পরিবারের লোকজন জানান, আগুন মুহূর্তে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরে থাকা বাংলাদেশিরা বের হতে পারেননি, ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা যান। আগুন কীভাবে লেগেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

নিহতরা হলেন মো. ফাহিম (২৯), মো. আপন আহমেদ (২৩), নুর মোহাম্মদ (৫৫), মো. ফয়সাল (২৬), মো. শাহিন (৩০) ও মো. রাজিক (৫৫)। ফাহিম ও আপন আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচর গ্রামের; ফাহিমের বাবা মনির হোসেন, আপনের বাবা আলী মিয়া। ফয়সাল বক্তাবলী ইউনিয়নের তৈলখিরার চরের ফারুক হোসেনের এবং শাহিন কানাইনগরের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে, আর রাজিক মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়ার মৃত সালাম ব্যাপারীর ছেলে।

আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী জানান, নিহতরা সবাই তার আত্মীয় ও দীর্ঘদিনের চেনাজানা মানুষ; জীবিকার তাগিদে অনেক দিন ধরে তারা ওই প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। তার হিসাবে নিহতদের চারজন আলীরটেক ইউনিয়নের, একজন বক্তাবলীর এবং একজন মুন্সীগঞ্জের।

একই গ্রামের তিনজনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ ক্রোকেরচর। পরিবারের হাল ধরতে প্রায় ১১ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন ফাহিম, তার পাঠানো টাকাতেই চলত সংসার; ছেলের মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ বাবা মনির হোসেন। চার বছর আগে বিদেশে যাওয়া ২৩ বছরের আপনের বাবা আলী মিয়া জানান, কয়েক দিন আগেও ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল, ‘আমি কি জানতাম, এটাই আমার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হবে।’

আপনের মামা রাসেল বলেন, পরিবারের ভাগ্য বদলাতে বিদেশে গিয়েছিল ভাগনে, অথচ এখন সে ফিরছে লাশ হয়ে। নুর মোহাম্মদের খালাতো ভাই আমীর হোসেন জানান, দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তেই দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। বক্তাবলীর তৈলখিরার চরে ফয়সালের বাড়ি ও কানাইনগরে শাহিনের বাড়িতেও চলছে মাতম; প্রতিবেশীরা ফয়সালকে শান্ত ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে চিনতেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা এখনো আসেনি, তবে প্রশাসন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করছে। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশি কমিউনিটি ও নিহতদের স্বজনেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দ্রুত মরদেহ দেশে ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন। উপার্জনক্ষম সদস্য হারানো পরিবারগুলোর পাশে সরকার দাঁড়াবে, এমন প্রত্যাশাও তাদের।