সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হয়েছে। এই প্রাথমিক ক্যাম্পে সুযোগ পেয়েছেন ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফরোয়ার্ড মাহি খান। এর আগে তিনি বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে খেলেছেন। এখন তাঁর সামনে সিনিয়র জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ।

সোমবার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলনের প্রথম দিনেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন মাহি। প্রাথমিকভাবে ডাকা ২৮ ফুটবলারের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য তিনিই। ইংল্যান্ডের ইউনাইটেড কাউন্টিস লিগের ক্লাব মৌলটন এফসির এই ফরোয়ার্ডের চোখ এখন চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নেওয়ার দিকে।

প্রথমবার সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়াকে বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন ১৮ বছর বয়সী মাহি। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছি। এতে আমি নিজে যেমন গর্ববোধ করছি, তেমনি আমার পরিবারের সবাইও ভীষণ খুশি।’

তবে ক্যাম্পে ডাক পাওয়াতেই থেমে থাকতে চান না এই স্ট্রাইকার। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের স্বপ্নও দেখছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করার সময় এবং ইনশাআল্লাহ আমরা সাফ শিরোপাও জিতব।’

ফরোয়ার্ড হিসেবে গোল করায় আত্মবিশ্বাসী মাহি জানান, জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। কোচ আমার কাছে কী প্রত্যাশা করছেন, তা আমি স্পষ্ট জানি। মাঠে কোচের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব এবং আশা করি গোল পাব।’

উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে চান এই তরুণ। ওই সফরে প্রত্যাশামতো খেলতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তিনি। মাহি জানান, সেসময় দল কিছুটা নার্ভাস ছিল। তবে ওই টুর্নামেন্ট থেকে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেখানকার ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সিনিয়র দলের হয়ে কাজে লাগাতে চান তিনি।

জাতীয় দলে ‘নাম্বার নাইন’ পজিশনে খেলার চাপ থাকলেও নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থা আছে মাহির। হাতের চোট থেকেও পুরোপুরি সেরে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডে ফিরে চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা করানোর পর ম্যাচও খেলেছেন। এখন তিনি শতভাগ ফিট বলে দাবি করেন।

তবে মাহির কাছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় হতে পারে হামজা দেওয়ান চৌধুরীর সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করা। ২৮ জনের প্রাথমিক তালিকা থেকে চূড়ান্ত ২৩ জনে জায়গা করে নিতে পারলেই সেই সুযোগ মিলবে।

ছোটবেলা থেকেই লেস্টার সিটির হয়ে হামজার খেলা দেখে বড় হয়েছেন মাহি। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে যাকে দেখে বড় হয়েছি, এখন তার সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ এসেছে—এটি আমার জন্য বিশাল এক সম্মানের ব্যাপার। তিনি শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলেছেন এবং তাঁর প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে। হামজার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাব, তাই আমি দারুণ রোমাঞ্চিত।’

Source: জাগো নিউজ২৪