কোন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবদান রাখছে না—এমন প্রশ্নে এখন সম্ভবত প্রতিটি ক্ষেত্রের কথাই উঠে আসে। প্রযুক্তিটিকে এখন অনেকেই এক ধরনের আশীর্বাদ বলে মনে করছেন, কারণ এর কল্পনায় তৈরি হচ্ছে এমন সব পূর্ণাঙ্গ নাটক-সিনেমা, যেখানে থাকা স্থান বা মানুষের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে এসব দৃশ্য দেখেই বোঝার উপায় নেই যে পর্দায় দেখা অভিনেতাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই।

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের একজন ইলন মাস্ক জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট গ্রোকের মালিক। তিন মাস আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, গ্রোক থেকে ‘দ্য ওডিসি’র পূর্ণদৈর্ঘ্য একটি ‘ঐতিহাসিকভাবে নির্ভুল’ চলচ্চিত্র প্রকাশ করা হবে। সেই ঘোষণার পর এবার গ্রোক সাত মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ভিডিওটিকে এখন ‘ওডিসি সিরিজের প্রথম পর্ব’ হিসেবে অভিহিত করছে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) গ্রোক ইমাজিন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিশিয়াল পেজগুলোতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি তৈরি হয়েছে ওয়ান্ডার স্টুডিওস ও পরিচালক ডেভ ওয়াকারের সহযোগিতায়। গ্রোকের এই ছবিটি কেমন হয়েছে, তা দর্শকেরা নিজেরাই দেখে নিতে পারেন।

মাস্কের সাম্প্রতিক অন্যান্য ভিডিওর তুলনায় এই ভিডিওটি দর্শকদের কাছ থেকে বেশ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। ভিডিওটি ভালোভাবে না জানলে কিছু দৃশ্যে মনে হতে পারে, সত্যিকারের অভিনেতারাই বাস্তব সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছেন।

নোলানের সমালোচনা করেছিলেন মাস্ক

এর আগে পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ চলচ্চিত্রে অশ্বেতাঙ্গ ও ট্রান্সজেন্ডার অভিনেতাদের অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ায় তাঁর সমালোচনা করেছিলেন মাস্ক। নানা দিক থেকেই নোলান যেন মাস্কের বিপরীত মেরুর মানুষ।

স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী মাস্ক যেমন মহাকাশে তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের ধারণা প্রচার করছেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অসংখ্য কনটেন্ট প্রকাশ করছেন, তেমনি নোলান নিজেকে ‘প্রযুক্তি নিয়ে সংশয়বাদী’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগে এমন কোনো প্রযুক্তি তিনি দেখেননি, যা সাধারণ মানুষ এত ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

নোলানের ‘দ্য ওডিসি’র সাফল্য

নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ চলচ্চিত্রে প্রচুর দৃশ্যগত প্রভাব ব্যবহার করা হলেও এর মূল শক্তি ছিল বাস্তব উপায়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ। ছবিটি ছয়টি দেশে চিত্রধারণ করা হয়েছে এবং এতে অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীর সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। জুলাইয়ে মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে অসাধারণ সাফল্য পায়। কয়েক মাস ধরে আইম্যাক্সের প্রদর্শনীর টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আগামী একাডেমি পুরস্কারেও ছবিটি অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক নির্ভুলতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

গ্রোকের তৈরি ছবিটি ঐতিহাসিকভাবে কতটা নির্ভুল, তা নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। তবে কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে—কারণ ভিডিওটিতে কেউই প্রাচীন গ্রিক ভাষায় কথা বলছেন না।

আবার অনেকেই বলছেন, সব চরিত্রের গায়ের রং মাস্কের পছন্দসই হয়েছে। আর বর্ণনাকারীর ব্রিটিশ উচ্চারণটি তাদের কাছে বেশ পরিচিত মনে হবে, যারা ফ্যান্টাসি ভিডিও গেম খেলেছেন কিংবা হলিউডের সাধারণ কোনো মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র দেখেছেন—তাদের কাছে এটি আরও বেশি ভালো লাগবে।

Source: জাগো নিউজ২৪