নাটোরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ১৩৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। নাটোর জেলা শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত তালিকায় জেলার ছয়টি উপজেলার এসব প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কলেজ, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদরাসা রয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, নাটোর সদর উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয়ে আটজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। বাগাতিপাড়া উপজেলায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিল। এর মধ্যে বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে একজন, তমালতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে দুজন এবং চিঞ্চিলা হাই স্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজে ১০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
নাটোরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুস্তম আলী হেলালি জানান, অকৃতকার্য ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬টি নন-এমপিওভুক্ত। অন্য দুটি নলডাঙ্গা উপজেলার এমপিওভুক্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈতনিক এবং এসব প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার মান কিছুটা নিম্নগামী। এ কারণে অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। আগামীতে এ ধরনের ফলাফল যেন না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সচেতন নাগরিক কমিটির নাটোর শাখার সভাপতি এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ফল বিপর্যয় প্রমাণ করে সেখানে ঠিকমতো পড়াশোনা করানো হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং শিক্ষার্থীরা যেন যথাযথ শিক্ষা অর্জন করতে পারে, সে বিষয়টি নজরদারিতে রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
Source: জাগো নিউজ২৪






