জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, অতীতের নীতির কারণে জ্বালানি খাতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে; সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সরকার জ্বালানির উৎস বহুমুখী করতে চায়।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সাইন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি, বিদ্যুৎনির্ভর যানে জোর

মাহদী আমিন জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্পও চলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো। এ কারণে নতুন যেসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সেখানে বৈদ্যুতিক যানবাহনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির পরিবেশ-ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সিএনজিচালিত পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে কার্যকর নীতি প্রণয়নে বিএনপির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন নিষিদ্ধকরণ এবং পাটজাত ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রসারেও বিএনপি সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল।

তিনি আরও জানান, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে দেশব্যাপী সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বৃক্ষমেলা আয়োজন করা হতো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই সংস্কৃতি নতুন করে ফিরিয়ে আনা এবং আরও বিকশিত করার ইচ্ছার কথা তিনি ব্যক্ত করেন।

‘উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস নয়’

মাহদী আমিন বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান তাঁরা, যেখানে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করা হবে না, বরং প্রকৃতি সংরক্ষণ করা হবে। তাঁর মতে, এমন প্রকল্প ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া প্রয়োজন, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে; কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন বিশুদ্ধ ও নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারে, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা তাদের লক্ষ্য। সে জন্য বহুমুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের মহাপরিকল্পনা

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজের মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে জলাধার তৈরি করা হবে। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখা এবং পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোনের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।

Source: জাগো নিউজ২৪