রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হয়েছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
নতুন এ ব্যবস্থায় প্রাথমিকভাবে ছয়টি রুটে ছয়টি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালিত হবে। একই রুটে বিভিন্ন কোম্পানির বাস চলাচলের বদলে নির্দিষ্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় বাস পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রী ধরার ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি রুটে মোট ৮১৬টি বাস পরিচালনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৯৬টি নন-এসি ও ২০টি এসি বাস।
চালু হওয়া রুটগুলো হলো—গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, মিরপুর চিড়িয়া খানা থেকে কেরানীগঞ্জ, ঘাটারচর থেকে ডেমরা, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে ধউর এবং টঙ্গী থেকে আজিমপুর।
রুটভেদে বাসের রং আলাদা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে যাত্রীরা সহজে নির্ধারিত রুটের বাস শনাক্ত করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এর আগে প্রাথমিক পরিকল্পনায় এসব রুটে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাস পরিচালনার কথা জানানো হয়েছিল। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিববাড়ী থেকে আজিমপুর রুটে ভিআইপি পরিবহনের ২৫৩টি বাস, মিরপুর চিড়িয়া খানা থেকে কেরানীগঞ্জ রুটে চিড়িয়া খানা সিটি বাসের ১৩৩টি বাস এবং ঘাটারচর থেকে ডেমরা রুটে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজের ৭০টি বাস চলাচলের কথা রয়েছে। এছাড়া ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে ফোর স্টার বাস লাইনের ১৫০টি, ঘাটারচর থেকে ধউর রুটে পিএনপি সিটি সার্ভিসের ১৯০টি এবং টঙ্গী থেকে আজিমপুর রুটে ঢাকা চাকার ২০টি এসি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিটিসিএর পরিকল্পনায় রাজধানীর বাস নেটওয়ার্ককে ধাপে ধাপে আরও সুশৃঙ্খল কাঠামোয় আনার উদ্যোগ রয়েছে। এর অংশ হিসেবে নির্ধারিত বাসস্টপ, ইলেকট্রনিক টিকিটিং এবং জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর কথাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, কোম্পানিভিত্তিক এ ব্যবস্থার মাধ্যমে একই রুটে বাসগুলোর মধ্যে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতা কমবে। পাশাপাশি নির্ধারিত রুট ও বাসস্টপ মেনে চলাচল নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যানজট কমাতেও সহায়ক হবে।
তবে নতুন এ কার্যক্রম শুরুর আগেই কয়েকটি কোম্পানির রুট বরাদ্দ এবং বাসের ফিটনেস নিয়ে জটিলতার কথা উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে এবং পর্যায়ক্রমে সব কোম্পানিকে নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
Source: জাগো নিউজ২৪






