ঢাকার আশুলিয়ায় তৈরি পোশাকশিল্পের তিনটি কারখানায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বেশ কিছু দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকেরা। তবে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অন্য কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সাভার উপজেলার আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ, ইউনিক, জামগড়া ও নরসিংহপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার বিভিন্ন কারখানায় কাজ চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে ও কারখানার সামনে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর সদস্যরা জানান, অধিকাংশ কারখানায় সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন চলছে। তবে নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস, নিউএইজ গ্রুপের একটি কারখানা এবং ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান করছেন।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল থেকে অধিকাংশ কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। তবে তিনটি কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখেছেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন জানান, কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছেন। তবে তিনটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ বন্ধ থাকা কারখানাগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শ্রমিকদের আশ্বস্ত করতে রোববার সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পক্ষ থেকে পুলিশের গাড়িতে মাইকিং করা হয়। এতে বলা হয়, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে শিল্প পুলিশ আন্তরিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।

মাইকিংয়ে আরও বলা হয়, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, অত্র শিল্প এলাকায় সর্বদা আপনাদের পাশে থেকে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সেবা প্রদান করে আসছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ আপনাদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে সবসময় শ্রমিক ভাই ও বোনদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে....।’

এদিকে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি কারখানার একদল শ্রমিক। এ সময় তারা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে গিয়ে এক পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানায়। পরে শ্রমিকেরা সড়কের পাশে অবস্থান নেন। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা আবারও সড়কে অবস্থান নেন।

Source: জাগো নিউজ২৪