পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ অন্যান্য যৌক্তিক দাবি সরকার বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। এ বিষয়ে গঠিত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শিগগির একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ ও শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, উসকানি ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে তাঁরা যেন শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানান।

ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড

ফরিদা খানম জানান, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে ছয় সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এতে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি একজন নিরপেক্ষ প্রতিনিধি রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সবার মতামত, শিল্পের সক্ষমতা এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে একটি যৌক্তিক মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে ব্যবহার করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ কিংবা কারখানার উৎপাদন বন্ধ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন শ্রমিকেরা; এতে তাঁদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তাই দাবি আদায়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক পথ অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

উৎপাদন সচল রাখার তাগিদ

তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন সচল রাখার বিষয়েও জোর দেন ফরিদা খানম। তিনি বলেন, এ শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবিকা এবং দেশের রপ্তানি আয় জড়িত। কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে এবং অর্থনীতিও সচল থাকবে। এ জন্য শ্রমিক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় মালিকপক্ষের প্রতি শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি, অধিকার ও কল্যাণের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।

অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভ

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল। এর মধ্যে গত ২৯ অক্টোবর থেকে গাজীপুর, সাভারের আশুলিয়া ও হেমায়েতপুর শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ জোরালো হয়। ৩১ অক্টোবর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় কয়েকটি কারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

জেলা প্রশাসক জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সমন্বিত তৎপরতা এবং সতর্ক অবস্থানের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

সভায় ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Source: জাগো নিউজ২৪