ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির আভাসে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে স্বস্তি ফিরেছে। এর প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় চার শতাংশ কমেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৯টা নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার ২০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১০৯ ডলার ২৩ সেন্টে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম কমেছে ৩ ডলার ৯৮ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ১৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইরান ও কাতারের কর্মকর্তাদের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চলার খবরই তেলের বাজারে এই প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত রোববার দোহায় আলোচনা শেষে ইরানের প্রতিনিধিরা ফিরে গেলেও এতে কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন বৈঠক সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার বলেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পরামর্শ করতেই তিনি বৈঠক করছেন। এ সময় তিনি জানান, তেহরান কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা—উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত।

বিশ্লেষকেরা কী বলছেন

জ্বালানি তেলের বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা না বাড়ায় আপাতত তেলের দাম কমেছে। তবে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (অ্যাডনক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত থেকে প্রায় ১০০ কোটি ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়েছে।

তেলের দাম আবার বাড়ার আশঙ্কাও করছেন বিশ্লেষকেরা। সরবরাহের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় গোল্ডম্যান স্যাকস রোববার তেলের দাম নিয়ে তাদের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল কম থাকলে ২০২৭ সালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, জাহাজ চলাচলে হামলা, জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং তেল সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Source: জাগো নিউজ২৪