চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিল্লুর রহমান জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৭)। একই মামলার এজাহারভুক্ত আরেক আসামি মো. আরমানকেও (২৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে জীবনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ।
কখন, কোথায় গ্রেফতার
এসআরবি জানিয়েছে, রোববার (১ নভেম্বর) দিনগত রাত ২টা ১০ মিনিটে ঢাকার ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি আরমানকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রধান আসামি জুয়েলকে এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম ও এসআরবি-১, ঢাকার যৌথ দল গ্রেফতার করে। অন্যদিকে আরমানকে গ্রেফতার করে এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম ও এসআরবি-১১, নারায়ণগঞ্জের যৌথ দল।
নিহত জীবনের পরিচয়
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, নিহত আবু ইউসুফ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের মোহাম্মদ গোলাম নবীর ছেলে। তিনি পরিবারসহ চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় বসবাস করতেন। শেরশাহ এলাকার একটি আইসক্রিম কারখানায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন-চার মাস আগে জিল্লুর রহমান জুয়েলের সঙ্গে রাজনীতিতে জড়ান জীবন। পরে রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় জুয়েল ও তাঁর সহযোগীরা লাঠি ও ধারালো ছুরি নিয়ে জীবনের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত গুরুতর জখম হয়। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।
মামলা ও আইনগত প্রক্রিয়া
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় প্রথমে হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়।
গ্রেফতার দুজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
Source: জাগো নিউজ২৪






