সেন্টমার্টিন দ্বীপে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেড প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নতুন করে ১০ টাকা বাড়িয়েছে। এতে আবাসিক গ্রাহকদের ইউনিটপ্রতি দাম ৬৫ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত রোববার (১ নভেম্বর) থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।

দাম বাড়ানোর খবরে দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। এর প্রতিবাদে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করার এবং তাদের বিদ্যুৎ বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম। একই সঙ্গে দ্বীপে সরকারিভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আগে কত ছিল

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন সিদ্ধান্তের আগে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ছিল ৫৫ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ছিল ৬৬ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে উভয় শ্রেণির গ্রাহকের ক্ষেত্রেই ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে আবাসিক গ্রাহকদের দাম দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকায় এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৭৬ টাকায়।

দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এত বেশি দাম দিয়েও দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।

সরকারি সরবরাহ বন্ধ ১৯৯৪ থেকে

জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের মে মাস থেকে দ্বীপে সরকারিভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওই সময় ঘূর্ণিঝড়ে পিডিবির জেনারেটরভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর সচল করা হয়নি। পরে ২০১৯ সালে ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেড ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার গ্রাহক এ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ পাচ্ছেন।

‘বাড়তি দামে বিদ্যুৎ প্রয়োজন নেই’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের সংকটের বিষয়টি তাঁরা সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন। কিছুদিন আগে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে তাঁরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাড়তি দামে তাঁদের বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই। প্রতিষ্ঠান চাইলে তাদের বিদ্যুৎ নিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, দ্বীপবাসীর সুবিধার্থে তাঁরা সরকারিভাবে পিডিবির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি করছেন।

ফয়েজুল ইসলাম আরও বলেন, তাঁরা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দ্বীপবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ বয়কটের ঘোষণা দিচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা

এ বিষয়ে ব্লু মেরিন এনার্জির প্রকৌশলী মোহাম্মদ শিহাব বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রবেশ করানোর কারণে দ্বীপে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। পর্যটন মৌসুমে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইউএনও কী বলছেন

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কিছু জানায়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দাম বাড়ানো হবে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল। বিষয়টি তারা দেখছেন।

Source: জাগো নিউজ২৪