ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন। খবর ফক্স নিউজের।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (৯ নভেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা বা নতুন চাঁদের রাত। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ওই দিন রাতের আকাশে চাঁদের আলো কম থাকবে। সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অনুকূল হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন’
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। কিন্তু হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।’
এদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে অভিযান শুরুর কোনো নির্দেশ পায়নি তারা।
ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার আহ্বান
একই দিনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। ওই আলাপে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বলা হয়, আল-জাইদি রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়ে ইরাকের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ডকে কোনোভাবেই উৎক্ষেপণস্থল বা হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সাত শর্ত, হরমুজ খুলবে না তেহরান
বৃহস্পতিবার কাতারের মাধ্যমে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটনকে সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে তিনি রাজি হননি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে তৎপরতা বাড়িয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই এ উদ্যোগ চলছে।
যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলে পাল্টা হামলার পরিসর আরও বাড়ানো হবে বলে মঙ্গলবার সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়ি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্তের কথা জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত আমরা হরমুজ প্রণালি খুলব না, আলোচনাতেও বসব না।’
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
কাতারের মধ্যস্থতা অব্যাহত
দুই দেশের মতপার্থক্য দূর করতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। গত সোমবার তারা তেহরান সফর করেন। সেখানে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় থাকা একটি খসড়া চুক্তি নিয়ে কথা হয়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো দুই পক্ষই পর্যালোচনা করছে। আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন প্রস্তাব
ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব এমন এক সময় এসেছে, যখন দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপে সীমিত পরিসরে হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে জানা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ওই অভিযানকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র আবারও বড় পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করছে।
তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আলোচনা, সেন্টকমের প্রস্তুতি ও ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারির মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দুই দেশের অবস্থানের ব্যবধান এখনো স্পষ্ট।
Source: জাগো নিউজ২৪






