যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। তাঁর দাবি, এই আদেশের ফলে ভবিষ্যতে কোনো প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের এই গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবেন না।

ট্রাম্প বলেন, ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা করা হচ্ছে। এর ফলে কেউ এটি ভাঙতে, সরিয়ে ফেলতে বা সামান্য ভিন্ন নকশায় নতুন করে গড়ে তুলতে পারবেন না।

তবে নির্বাহী আদেশে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টদের ওভাল অফিসের সাজসজ্জা পরিবর্তনের ক্ষমতা পুরোপুরি খর্ব করা হয়নি। আদেশের নথিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট চাইলে কক্ষটির সাজসজ্জা, আসবাবপত্র এবং স্বাভাবিক পরিচালনা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে এসব পরিবর্তনের ফলে স্মৃতিস্তম্ভটির ঐতিহাসিক কাঠামো বা স্থাপত্যশৈলীর বড় ধরনের ক্ষতি করা যাবে না।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের হোয়াইট হাউসে কিছু পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রয়েছে। তবে বড় ধরনের নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজন হয় কংগ্রেসের অনুমোদন।

ট্রাম্পের এই আদেশ এমন এক সময় এল, যখন কয়েক মাস আগে তিনি হোয়াইট হাউসের পুরো ইস্ট উইং ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেন। ওই প্রকল্প নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে একটি নতুন বলরুম তৈরি করা হবে।

ট্রাম্প বলেন, ওভাল অফিস তাঁর পছন্দের জায়গা। এটি হোয়াইট হাউসের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতীক এবং দেশের মহত্ত্বের পরিচায়ক। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে যেসব বিশ্বনেতা এসেছেন, তাঁরা কক্ষটির নতুন সাজসজ্জার প্রশংসা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের ভাষ্য, তাঁর পরিবর্তন আনার আগে হোয়াইট হাউস ও ওভাল অফিসের অবস্থা ভালো ছিল না। সেগুলোতে সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। তিনি কক্ষটির ভাঙা জানালা, ফাটল ধরা দেয়াল ও ক্ষতিগ্রস্ত পাথরের কথা উল্লেখ করেন।

তবে ওভাল অফিস ও হোয়াইট হাউসে আনা দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলোর অনেকগুলোই ছিল মূলত সাজসজ্জাসংক্রান্ত। এর মধ্যে ওভাল অফিসের বাইরে ‘ওভাল অফিস’ লেখা একটি বড় সোনালি ফলক স্থাপন, রোজ গার্ডেনের মেঝে পাকা করা এবং নতুন হেলিকপ্টার অবতরণস্থল তৈরি করা উল্লেখযোগ্য।

ট্রাম্প বলেন, নতুন নির্বাহী আদেশের ফলে ভবিষ্যতে কেউই এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি ধ্বংস করতে পারবেন না।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, জাগো নিউজ ইন্টারন্যাশনাল

Source: জাগো নিউজ২৪