লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ‘হাইব্রিড’ নেতাদের অত্যাচারের অভিযোগ তুলে কৃষকদল নেতা শামীম গাজী বলেছেন, তিনি এখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলের চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে জেলা শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

শামীম গাজী রায়পুর উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সদস্যসচিব এবং উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজীর ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ কবিরাজ ও তাঁর ভাই মেহেদী কবিরাজের বাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল ও লুটপাট এবং নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের অভিযোগ করেন।

‘আওয়ামী আমলে ফারুককে আন্দোলনে দেখিনি’

লিখিত বক্তব্যে শামীম গাজী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে কোনো দিন ফারুক কবিরাজকে আন্দোলন-সংগ্রামে দেখিনি। ৫ আগস্টের পর হাইব্রিড রূপে ফিরে এসে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হন। তার ভাই মেহেদী কবিরাজের নেতৃত্ব একটি অস্ত্রধারী বাহিনী ইউনিয়নব্যাপী আধিপত্য বিস্তার করে। তারা চরের অন্তত দুই হাজার একর জমি দখল করে নিয়েছে। মাছ-ঘাট দখল, চাঁদাবাজি, দুঃসময়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা-ভাঙচুরসহ ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকার অন্তত দুই হাজার নেতাকর্মীকে ঘরছাড়া করেছে। যাদের অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের শেষ ১৩ বছর রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ফারুক কবিরাজের ষড়যন্ত্র এবং তার ভাই মেহেদী কবিরাজের একের পর এক হামলায় এখনো রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারি না। তারা আমার তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলসহ প্রায় ২২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে, মাছের বাক্স নদীতে ফেলে দিয়েছে। অতীতের চেয়ে বেশি কষ্ট এখন আমি ভোগ করছি। ফ্যাসিস্টের আমলের চেয়ে আমি এখন আরও বেশি খারাপ অবস্থায় আছি।’

কৃষকদল নেতা শামীম গাজী বলেন, ‘হত্যার হুমকি ও আমার কর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে আমি ও আমার নেতাকর্মীরা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এমপি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইলেন ভুক্তভোগী

এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপি ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শামীম গাজী।

তাঁর দাবি, উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থিতা নিয়েই নেতাকর্মীসহ তাঁকে মামলা দিয়ে হয়রানি এবং অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছেন ফারুক কবিরাজ।

‘অভিযোগ মিথ্যা’

জানতে চাইলে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজ বলেন, ‘একটি ঘটনায় বাজারের উত্তেজিত জনগণ শামীমের ফার্মেসিতে হামলা করে। এ ঘটনায় আমি বা আমার কেউ জড়িত নই। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগের ঘটনাগুলো কখনো ঘটেছে কি-না আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’

‘লিখিত অভিযোগ পাইনি’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘শামীম গাজীর মাছ-ঘাটসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা শুনেছি। তবে এসব ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Source: জাগো নিউজ২৪