জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বেতন পাচ্ছেন না। ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারাই তাদের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের হাতে কোটি কোটি টাকার তহবিল থাকলেও এ সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেই। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১২টায় রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে ডাকা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

পরওয়ার দাবি করেন, জুলাইয়ে আহতদের চিকিৎসায় জামায়াত পাশে ছিল এবং শহীদদের স্মৃতি বিশ্বের সামনে তুলে ধরা ও সংরক্ষণের জন্য দলটি নিজস্ব উদ্যোগে বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় বই প্রকাশ করেছে। বিএনপির অভিযোগ, জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না; এ অভিযোগকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি পাল্টা বলেন, সরকার নিজেই জুলাইকে ধারণ করে না বলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। তার অভিযোগ, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বদলে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাংবিধানিক পদেও ছাত্রদল-যুবদলের লোক বসানো হচ্ছে।

জুলাইকে ধারণ করে বলেই জামায়াতসহ ১১ দল গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে বলে জানান তিনি। পরওয়ারের অভিযোগ, নোট অব ডিসেন্ট আঁকড়ে থাকতে গিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে, যাকে তিনি ফ্যাসিবাদী অবস্থান বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, নিজেদের পছন্দমতো বিশেষ কমিটি গঠন করে সংস্কারের বদলে সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটা হচ্ছে, আর সংবিধান এ অবস্থায় থাকলে যিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনিই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠবেন।

সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলের সহযোগিতা কেন লাগবে—এ প্রশ্ন তুলে পরওয়ার বলেন, জনগণ প্রায় ৭০ ভাগ ভোটে গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, অথচ সরকার জনগণকে পাশ কাটিয়ে সংস্কার ছাড়াই সংশোধন করতে চাইছে। এ বিষয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে সরকারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। সাত মাসের সমন্বয়হীনতার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর সরকারি চেষ্টাকেও হাস্যকর বলেন পরওয়ার।

ওসমানী উদ্যানের অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অংশগ্রহণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবও দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, আমন্ত্রণপত্রে প্রতিমন্ত্রীদের নাম থাকলেও বিরোধীদলীয় নেতার নাম ছিল না, যা অসম্মানজনক; অথচ রুলস অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী তিনি পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদা পান এবং যথাযথ সম্মান না পাওয়াতেই অনুষ্ঠানে যাননি। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসত্য ও হাস্যকর আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানান পরওয়ার।

তার অভিযোগ, দুর্নীতি ও দলীয়করণ নিয়ে কথা বললেই বিরোধী দলকে রাষ্ট্রবিরোধী তকমা দেওয়া হচ্ছে, আর নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে জুজুর ভয় দেখিয়ে সব দায় তাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। জামায়াত ফ্যাসিস্টদের ফেরার সুযোগ করে দিচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলন উপেক্ষা করে অরাজকতা তৈরির মাধ্যমে সরকারই ইচ্ছা করে আওয়ামী লীগের ফেরার পথ খুলে দিচ্ছে। রিজভীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে দেখেই মানুষ ফ্যাসিজম চিনেছে, অথচ সাত মাসেই তিনি তা ভুলে গেছেন এবং ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণরায় উপেক্ষা করা ফ্যাসিবাদের পথ’।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত কখনো জোট করেনি দাবি করে পরওয়ার বলেন, চারদলীয় ও ২০ দলীয় জোট হয়েছিল বিএনপির সঙ্গেই; জামায়াতের প্রস্তাবিত কেয়ারটেকার সরকারের ফর্মুলার দাবিতে জাতীয় পার্টি ও বাম দলসহ অনেক দলকে নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, আর বিএনপির গণবিরোধী অবস্থানের কারণেই ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। প্রজ্ঞাপন দিয়ে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দেওয়াকে দলীয় লোক বসানোর ফ্যাসিবাদী চিন্তা আখ্যা দিয়ে তিনি রিজভীকে মনে করিয়ে দেন, শেখ হাসিনা ১৭ বছর এ পথেই হেঁটে শেষে দিল্লি চলে গেছেন। বিরোধী দলের এমপিদের সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত রাখা এবং নির্বাচিত এমপিদের ওপর দারোগাগিরি করতে অনির্বাচিত নারী এমপিদের বসানোকেও ফ্যাসিবাদের পথ বলে অভিযোগ করেন তিনি।