সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি মন্তব্য করেছেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়া ইশরাক হোসেন রাজনীতিতে এসেছেন পোষ্যকোটায়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেসরকারি একটি টেলিভিশনের টকশোতে তিনি বলেন, ইশরাকের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দুটিরই ঘাটতি আছে, আর সেই ঘাটতি ও আশপাশের লোকজনের পরামর্শ মিলেই হয়তো মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জানতে চান, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের কোনো ইঙ্গিত আছে কি না, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দাবি অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা ঢাকতে ইশরাককে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে কি না। জবাবে নিলোফার মনি বলেন, পরপর দুই সপ্তাহে দুজন এমপি-মন্ত্রীর পদত্যাগ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনেরই প্রমাণ।
এনসিপি ইশরাকের সঙ্গে আগে কী আচরণ করেছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে দলটির অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, আদালতের রায় পাওয়ায় ইশরাকের তো এমপি বা মন্ত্রী নয়, ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে থাকার কথা ছিল; অথচ সে সময় তার বিষয়ে ইসি কার্যালয় ঘেরাওসহ কোনো কিছুই বাদ রাখেননি সজীব ভূঁইয়া। নিলোফার মনির দাবি, এনসিপির হিসাব হলো বিএনপি সিটি নির্বাচনে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে আর ইশরাককেও প্রার্থী করিয়ে দেওয়া গেলে দুজনের ভোট কাটাকাটিতে তাদের প্রার্থী জিতে যেতে পারেন।
তিনি বলেন, বাবা সাদেক হোসেন খোকার পরিচয়ের কারণে ঢাকার রাজনীতিতে ইশরাক একটি ফ্যাক্টর, আর তার মূল লক্ষ্য যে সিটি করপোরেশন, সে ঘোষণাও তিনি দিয়েছেন। তবে বয়স ও অভিজ্ঞতার কমতি অস্বীকার করার উপায় নেই জানিয়ে নিলোফার মনি বলেন, ‘ইশরাক পোষ্যকোটায় এসেছে, সাদেক হোসেন খোকার ছেলে।’
রাজনীতিতে অভিজ্ঞতাকে ভীষণ জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইশরাকের ঘনিষ্ঠজন ও পরামর্শদাতারা তাকে সিনেমার কায়দায় এমন কিছু করতে উসকে দেননি, এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তার দাবি, তার মতো রাজনীতিকের পেছনে কেউ সারা দিন ঘুরেও তাকে দিয়ে এমন টেলিভিশন শিরোনাম বানাতে পারবে না। মাদকসেবীরাও মানুষ এবং এমনিতেই দুর্বল, তাদের ধরে মামলা দিয়ে কদিন পর ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তাদের পেছনে ছোটার অর্থ দেখেন না তিনি; তার মতে, সরবরাহকারীরা একটি বড় মাফিয়া সিন্ডিকেট, তাদের বিরুদ্ধে গেলে বিষয়টি ভিন্ন হতো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রী কেবল নির্দেশ দেবেন, মাঠের কাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর; কয়েক দিন আগে ধাওয়া খেয়ে ফিরে আসার পর বাহিনী কেন আর চেষ্টা করেনি, সেই প্রশ্ন তাদেরই করা উচিত। উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়াকে আলাদা করে দেখার কথা বলেন নিলোফার মনি; তার মতে, ইশরাকের প্রক্রিয়াটি ঝামেলাপূর্ণ ছিল, তবে উদ্দেশ্য মহৎ হলে কিছুটা ক্ষমা পাওয়া যেতেই পারে। কাজটিকে তিনি খারাপ বলছেন না জানিয়ে যোগ করেন, এ ঘটনা থেকে একটি শিক্ষা পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযানের ভিডিওতে সাধারণ মানুষের ওপর তার দেহরক্ষীদের বলপ্রয়োগের দৃশ্য দেখা গেলে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়, এরপর ২০ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।






