প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে ঢাকায় ডেকে এনেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিষয়টিকে মন্ত্রণালয়ের একান্ত অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপে এক জাতীয় সংলাপ শেষে সাংবাদিকেরা রাষ্ট্রদূতকে ফেরানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন রাষ্ট্রদূতকে কখন ডাকা হবে, তা ঠিক করার এখতিয়ার পুরোপুরি মন্ত্রণালয়ের; এর সঙ্গে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো ইস্যু জড়িত নেই, এটি ‘একটি স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর’। নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো কপ-৩১ সম্মেলন উপলক্ষে ওই সংলাপের আয়োজন করে।
রাষ্ট্রদূতকে ফেরানোর কারণ খোলাসা না করলেও আসন্ন সফরটির গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের সম্পর্ক দিন দিন আরও দৃঢ় হয়েছে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপান অন্যতম প্রধান অংশীদার। তাঁর দাবি, বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক ভালো অবস্থানে পৌঁছেছিল।
শামা ওবায়েদের আশা, এ সফরের মাধ্যমে অবকাঠামো, জ্বালানি ও প্রযুক্তি থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত পর্যন্ত সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে। জাপানি বিনিয়োগ টানাকে সফরের বড় লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বিনিয়োগ নিয়ে নতুন আইন হয়েছে এবং প্রতিনিধিদলের আলোচনায় নতুন বিনিয়োগ আনার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, সফরটি আশার চেয়েও বেশি সফল হবে।
জলবায়ু প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় মিলে বাংলাদেশের অবস্থান তৈরি করছে। দেশের মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে সেখানে বক্তব্য দেওয়া হবে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনে নারী ও শিশুদের কষ্ট এবং বিভিন্ন অঞ্চলে এর বিরূপ প্রভাব বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সম্মেলনে বাংলাদেশ যাতে এক সুরে কথা বলে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অর্থায়নের প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা খুবই সামান্য, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনে বড় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। উপকূল, গ্রাম ও শহরের মানুষের দুর্ভোগ এবং প্রাণহানিসহ ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পর্যাপ্ত অর্থ দরকার, তবে তা ঋণ নয়, অনুদান হিসেবেই আসতে হবে বলে মত দেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে মিলে এ বাস্তবতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার কথাও বলেন তিনি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে চার দিনের সরকারি সফর করবেন তারেক রহমান। সফরে কৃষি ও মৎস্য, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান চলাচল, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকারের আধুনিকায়নসহ নানা খাতে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক সইয়ের আশা করা হচ্ছে, সঙ্গে সহযোগিতার অর্জন ও সামনের পথরেখা নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিরও পরিকল্পনা আছে। দুই পক্ষ প্রায় আটটি দলিল চূড়ান্ত করতে কাজ করছে, তবে শেষমেশ কয়টি সই হবে তা আলোচনা শেষে ঠিক হবে।






