২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সার্বিকভাবে ভালোর দিকে গেছে বলে মূল্যায়ন করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং নতুন সরকার গঠনের পর স্থিতিশীলতা আরও বেড়েছে, কমেছে সহিংসতা।

‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শিরোনামের এ প্রতিবেদনের তথ্য ও বক্তব্য তুলে ধরে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। পোস্টে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দল সিপিআইটি ২০২৬ সালের ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশে তথ্য-অনুসন্ধান মিশন চালায়।

মিশনের সদস্যরা সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক ও গবেষকদের সাক্ষাৎকার নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে সহিংসতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কম হয়েছে; নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তুলনায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ এখন বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রগুলোর বক্তব্যে ২০২৪ সালের আগের সময়ের চেয়ে সাধারণ নাগরিকের মতপ্রকাশ, জনআলোচনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়ার কথাও এসেছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা মিশনকে জানান, সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ; বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া পদক্ষেপের কথাও বলেন তারা। প্রতিবেদনের ভাষ্য, এখনকার রাজনৈতিক সহিংসতা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত, আর এসব ঘটনার সঙ্গে প্রায়ই স্থানীয় আধিপত্য, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পত্তি কিংবা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে।

আগের সরকারের সময়ের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা তুলে নেওয়া এবং বন্দিদের ছেড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গও প্রতিবেদনে বিশেষ জায়গা পেয়েছে। সূত্রগুলোর বরাতে বলা হয়েছে, এমন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়াদের বেশির ভাগ মুক্তি পেয়েছেন এবং অধিকাংশ মামলাও তুলে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের হিসাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা বিবেচিত ২১ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে; অবশ্য পুরোনো মামলাগুলোর পর্যালোচনা এখনো চলছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাজের ধরন, তাদের জবাবদিহি এবং সংস্কারের প্রশ্নও প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করা হয়েছে।