পোশাকশিল্পে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি চালু হলে চাকরি কমার চেয়ে নতুন কাজের সুযোগ বাড়তে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগের সঙ্গে শ্রমিকের চাকরি হারানো বা মজুরির সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে কর্মসংস্থানে অটোমেশনের প্রভাবকে আলাদা করে বিচার করতে হবে।

জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাইফুল হক মিঠুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মতামত তুলে ধরেন। সবুজ রূপান্তরের ব্যয় ভাগাভাগি, তাপপ্রবাহে শ্রমিকের সুরক্ষা এবং তাঁদের বসবাসের এলাকায় নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

মোয়াজ্জেমের বক্তব্য, এই রূপান্তরে কারখানার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সরকারের ভূমিকা হবে আইন প্রয়োগ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে অনিয়ম দূর করা।

সবুজ জ্বালানি ও অটোমেশনের প্রভাব আলাদা

পোশাক কারখানায় সবুজ প্রযুক্তি ও অটোমেশন বাড়লে কাজ, মজুরি এবং আয়ে কী প্রভাব পড়বে—এ প্রশ্নে মোয়াজ্জেম প্রথমেই ধারণাগুলোর পার্থক্য বোঝার পরামর্শ দেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, সবুজ রূপান্তরের একাধিক দিক রয়েছে। দূষণ সৃষ্টিকারী বর্জ্যের ব্যবহার কমানো ও তা পুনর্ব্যবহারের বিষয়টি চক্রাকার অর্থনীতি বা সার্কুলার ইকোনমির সঙ্গে সম্পর্কিত। একে সবুজ রূপান্তরের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

তিনি জানান, সবুজ রূপান্তরের একটি পথ হলো জ্বালানির প্রয়োজন কমিয়ে আনা। সে জন্য জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো যায়। অন্য পথ হলো প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগানে জীবাশ্ম উৎসের বদলে নবায়নযোগ্য উৎস বেছে নেওয়া।

এই দুই ধরনের পরিবর্তনের কোনোটিই সরাসরি শ্রমিকের মজুরি বা কর্মচ্যুতির কারণ নয় বলে মনে করেন তিনি। এ কারণে শুধু সবুজ রূপান্তরকে কেন্দ্র করে চাকরি হারানোর আশঙ্কাকে তিনি ভিত্তিহীন মনে করেন। তাঁর মূল্যায়ন, এর মধ্য দিয়ে বরং নতুন ধরনের কাজ তৈরি হচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছাদে বসানো সৌরপ্যানেল স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় কিংবা শ্রমিক দিয়ে পরিষ্কার করা যায়। ধুলাবালি বেশি এমন এলাকায় ঘন ঘন পরিষ্কার করতে হয়; কম ধুলাবালির এলাকায় সেই প্রয়োজন তুলনামূলক কম।

তবে উভয় ক্ষেত্রেই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মী দরকার হয় বলে জানান মোয়াজ্জেম। এ কাজে বাইরে থেকে লোক নেওয়া যেতে পারে, আবার বেতন দিয়ে নতুন কর্মীও নিয়োগ করা সম্ভব। সে বিবেচনায় কাজ বিলুপ্ত হওয়ার তুলনায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাই তিনি বেশি দেখছেন।

পুনর্ব্যবহারে সুযোগ ও পরোক্ষ ঝুঁকি

বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন শিল্পের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান এই অর্থনীতিবিদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পোশাক উৎপাদনের বর্জ্য কাজে লাগিয়ে নতুন কারখানায় উন্নত মানের সুতা ও কাপড় তৈরি হচ্ছে। সেসব উপকরণ দিয়ে আরও ভালো মানের পোশাক বানানো সম্ভব।

তবে পোশাক কম ব্যবহার এবং ব্যবহৃত পোশাক আবার কাজে লাগানোর প্রবণতার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের পরোক্ষ সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যায়, বিষয়টি সরাসরি সবুজ জ্বালানির নয়; বরং পুনর্ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত। জ্বালানির চাহিদা ও পরিবেশদূষণ কমানোর উদ্দেশ্যে ইউরোপে মানুষকে কম পোশাক ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, আগে এক বা দুইবার পরার পর কোনো পোশাক ফেলে দেওয়া হলেও এখন সেটি আবার ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রচার চলছে। ইউরোপের দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে বেশি পোশাক কিনলে তার সঙ্গে এখানকার কাজের সুযোগের সম্পর্ক থাকে। বিপরীতে, পুনর্ব্যবহার বাড়িয়ে তারা বাংলাদেশে ক্রয়াদেশ কিছুটা কমালে শ্রমিকদের কাজ পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

মোয়াজ্জেমের মতে, শ্রমিকের কর্মসংস্থানে সরাসরি প্রভাবের প্রশ্নে মূল বিবেচ্য বিষয় অটোমেশন। তাই অটোমেশন, দূষণ ও পুনর্ব্যবহার এবং সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তর—এই তিনটি বিষয় পৃথকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, অটোমেশনের সঙ্গে শ্রমিকের কাজের সরাসরি যোগ রয়েছে। দূষণ কমানোর সঙ্গে পুনর্ব্যবহারের সম্পর্ক থাকলেও কর্মসংস্থানে তার বড় ধরনের সরাসরি সম্পর্ক নেই। আর জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও ছাদে সৌরবিদ্যুতের মতো উদ্যোগ নতুন কাজের সুযোগ বাড়াতে পারে।

মজুরি বাড়ার নিশ্চয়তা নেই

সবুজ প্রযুক্তিতে উৎপাদন ব্যয় কমলে সেই সাশ্রয় শ্রমিকের মজুরি বা কল্যাণে দেওয়া সম্ভব কি না, সে প্রশ্নে মোয়াজ্জেম আগে কাজের নিশ্চয়তার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, সে জন্য কারখানাকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জানান, ইউরোপে নতুন বিধিপালনের মানদণ্ড ও গ্রিন ডিল চালু হচ্ছে। কারখানাগুলোকে সেসব শর্ত অনুসরণ করতে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত জ্বালানির ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নতুন জ্বালানি দিয়ে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হচ্ছে। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে ক্রয়াদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে।

এই অর্থে সবুজ রূপান্তর কর্মসংস্থান ও মজুরি পাওয়ার নিশ্চয়তায় সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু এতে মজুরির পরিমাণ বাড়বে কি না, সেটি পৃথক প্রশ্ন। তাঁর মতে, মজুরি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে হলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকেও পণ্যের জন্য বাড়তি দাম দিতে হবে।

পরিবেশবান্ধব কিংবা মানসম্মত পণ্য তৈরির কারণে ভোক্তারা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি মূল্য দিচ্ছেন—এমন উদাহরণ এখনো তেমন দেখা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাড়তি মূল্য পেলে বাংলাদেশের সরবরাহকারীরা তার অংশ চাইতে পারেন। একইভাবে শ্রমিকেরাও অংশ দাবি করতে পারেন। তবে এই যোগসূত্র এখনো জোরালো হয়নি বলে তাঁর মূল্যায়ন।

রূপান্তরের ব্যয় কার

মোয়াজ্জেমের মতে, সবুজ রূপান্তরের খরচের দায়িত্ব সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত পক্ষগুলোকেই নিতে হবে। প্রথম দায়িত্ব কারখানার। উৎপাদন ও রপ্তানি থেকে মুনাফা অর্জন করায় পরিবেশদূষণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর দায়ও উদ্যোক্তার রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

দ্বিতীয় দায়িত্ব আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যায়, বাংলাদেশের কারখানাগুলো বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অংশ। বৈশ্বিক অঙ্গীকার পূরণে ক্রেতারা বিভিন্ন শর্ত দিচ্ছেন ও তা মানতে চাপ দিচ্ছেন। ফলে রূপান্তরের কাজে তাঁদেরও সহায়তা করা উচিত।

তবে কিছু ক্ষেত্রে এমন সহায়তা মিলছে বলেও জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে সরবরাহকারীদের সঙ্গে কার্বন বাজারের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে কার্বন ক্রেডিট না পাওয়ায় বাংলাদেশের অনেক বড় সরবরাহকারীকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তা কিনতে হচ্ছে। ক্রেতারা এ ক্ষেত্রে সংযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন।

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কিংবা জ্বালানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নেও যোগাযোগের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করা আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কারখানার সংযোগ ঘটানো হচ্ছে, যাতে কম খরচে অর্থায়ন বা অন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা মেলে।

কোনো কোনো ক্রেতা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) কার্যক্রম থেকেও সরবরাহকারীদের সবুজ প্রযুক্তির জন্য অর্থ দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন মোয়াজ্জেম। তাঁর মতে, সরবরাহকারী উদ্যোক্তা এবং এ প্রক্রিয়া থেকে সুবিধা পাওয়া ক্রেতা—উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। অন্যদিকে দেশের আইন ও বিধিবিধান ঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করবে সরকার।

তাপজনিত ক্ষতি জানতে তথ্য দরকার

সাক্ষাৎকারে তাপপ্রবাহ বৃদ্ধি, শ্রমিকের অসুস্থতা ও উৎপাদনে প্রভাবের অর্থনৈতিক হিসাব নিয়েও আলোচনা হয়। মোয়াজ্জেম জানান, তাঁরা নিজেরাও এ বিষয়ে গবেষণা করছেন। তাপজনিত মৃত্যু, অসুস্থতা এবং নানা রোগ থেকে হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা চলছে।

তাঁর মতে, এই ক্ষতি হিসাব করা সম্ভব। তবে যত মানসম্মত তথ্য পাওয়া যাবে, হিসাব তত সহজ হবে। তাপপ্রবাহ সরাসরি শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন ও সমস্যা তৈরি করতে পারে। আবার বেশি তাপমাত্রায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ এবং পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি উপকূলে লবণাক্ততা বাড়ায় নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধির কথাও বলেন তিনি। এসব কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি অর্থের হিসাবে আনা সম্ভব হলেও পর্যাপ্ত তথ্যের ঘাটতিকে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন তিনি।

এ জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাধ্যমে নিয়মিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেন মোয়াজ্জেম। পরিবেশের পরিবর্তনে মানুষের স্বাস্থ্যে কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, সরকারি তথ্য সংগ্রহে তা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সুরক্ষার বিনিয়োগে মালিকেরও লাভ

তাপ থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষার প্রযুক্তি ব্যবহারে সরকারি সুবিধা চাওয়ার বিষয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, নিজেদের স্বার্থেই উদ্যোক্তাদের শ্রমিককল্যাণে বিনিয়োগ করা দরকার। কারখানা শীতল রাখা ও তাপমাত্রা কমানোর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। গবেষণাতেও এর প্রমাণ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই বিনিয়োগের সুফল শেষ পর্যন্ত মালিকেরা পান বলে প্রথম পদক্ষেপ তাঁদেরই নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।

তবে ধুলাবালি বা তাপমাত্রা কমাতে কার্যকর নির্দিষ্ট প্রযুক্তির জন্য সরকারি সহায়তা চাওয়াকে যৌক্তিক মনে করেন মোয়াজ্জেম। উদাহরণ হিসেবে তিনি পাখা, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, অন্যান্য প্রযুক্তি এবং ছাদের তাপ কমানোর বিশেষ উপকরণের কথা বলেন। এসব আমদানিতে শুল্ক বা কর থাকলে তা কমাতে আর্থিক কিংবা রাজস্ব সুবিধা চাইতে পারেন উদ্যোক্তারা।

শ্রমিকের বাসায়ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ

কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ থাকলেও শ্রমিকের বাসায় বিদ্যুৎ–সংকট কাজকে প্রভাবিত করে কি না, সে প্রশ্নে মোয়াজ্জেম তাঁদের আবাসনের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, শিল্পশ্রমিকেরা সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে থাকেন। সেখানে লোডশেডিং হলে রাতে ঘুমাতে পারেন না।

তাঁর মতে, দিনের পরিশ্রম শেষে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। আবার ভোরে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে রান্না ও শৌচাগারের কাজ শেষ করে তাঁদের কর্মস্থলে যেতে হয়।

এসব এলাকার ছোট আবাসনগুলো মিনি-গ্রিডের আওতায় আনার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর প্রস্তাব, একটি এলাকা বা পাড়ার দায়িত্ব ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) ঠিকাদারকে দেওয়া যেতে পারে। ঠিকাদার ছাদ, উন্মুক্ত স্থান কিংবা খাসজমি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কম দামে সরবরাহ করতে পারেন।

তবে দাম সহনীয় রাখার ওপর জোর দেন মোয়াজ্জেম। তাঁর মতে, এই বিদ্যুতের ব্যয় যেন প্রচলিতভাবে কেনা বিদ্যুতের মতো বেশি না হয়। ব্যাটারি ব্যবহারের মাধ্যমেও খরচ কম রাখা যেতে পারে। এতে এলাকার বাড়ির মালিকদের আগ্রহ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি সতর্ক করেন, বাড়ির মালিকেরা এসব প্রযুক্তিতে অর্থ না দিলে শ্রমিকেরা সুবিধা পাবেন না। তাই তাঁদের বিনিয়োগ দরকার। ছোট-বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কিংবা সরকারের উন্নয়ন তহবিলের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় মিনি-গ্রিড করা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে নিজস্ব মূলধন খাটিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্যাপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী না-ও হতে পারেন বলে মনে করেন তিনি। তখন সরকারি নিশ্চয়তা প্রয়োজন হবে। কোনো ইপিসি ঠিকাদার বিনিয়োগ করে পরিচালনাভিত্তিক ওপেক্স মডেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে তা কেনা এবং মূল্য পরিশোধের গ্যারান্টি দিতে হবে। এতে পাড়া বা মহল্লার বাসিন্দা, বিশেষ করে শিল্পশ্রমিকেরা উপকৃত হতে পারেন বলে জানান তিনি।

ছোট কারখানার যৌথ উদ্যোগ

শ্রমিকবান্ধব ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের জন্য উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন মোয়াজ্জেম। তাঁর বক্তব্য, অন্তত কারখানা পর্যায়ে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থেই তাঁরা এ উদ্যোগ নিতে পারেন। এতে ব্যয় কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি ও ক্রয়াদেশ ধরে রাখার নিশ্চয়তা বাড়বে। সে জন্য উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে।

তাঁর পর্যবেক্ষণ, বড় কারখানা বিনিয়োগ করলেও ছোট কারখানা অনেক সময় আগ্রহ দেখায় না। এমন পরিস্থিতিতে কাছাকাছি কয়েকটি ছোট কারখানা যৌথভাবে মিনি-গ্রিড করতে পারে। নিজেদের পক্ষে অর্থ দেওয়া সম্ভব হলে ক্যাপেক্স মডেল নেওয়া যায়। স্থানীয় ইপিসি ঠিকাদারের সেবা নিয়েও ব্যয় কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের এ ধরনের উদ্যোগের সক্ষমতা আছে বলে জানান তিনি। সরকারের দায়িত্ব হবে মিনি-গ্রিড স্থাপনে সহায়তা করা। পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুৎ, ডিপিডিসি ও ডেসকোসহ বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা দরকার।

তবে এসব প্রতিষ্ঠান অনেক সময় যথেষ্ট সহযোগিতা করে না বলে অভিযোগ করেন মোয়াজ্জেম। তাঁর অভিযোগ, নেট মিটারিংয়ের অনুমোদনে বিলম্ব, ঘুস চাওয়া এবং বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার কথা বলে মাসের পর মাস আবেদন আটকে রাখার ঘটনা ঘটে। উদ্যোগগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এসব অনিয়ম বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিকেরাও কারখানায় সবুজ রূপান্তর এবং তার সুফলে নিজেদের অংশ পাওয়ার দাবি তুলতে পারেন বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁদের বসবাসের এলাকাতেও এই পরিবর্তনের উদ্যোগ দরকার।

মোয়াজ্জেম বলেন, কারখানার মালিকদের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, মালিক ও শ্রমিকেরা একসঙ্গে এলাকাভিত্তিক উদ্যোগ নিলে শ্রমিকদের আবাসিক এলাকাতেও দ্রুত সবুজ রূপান্তর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

Source: জাগো নিউজ২৪