বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসনসহ অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ শেষে কর্মস্থলে যোগ দিলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা কোনো ধরনের ওরিয়েন্টেশন ছাড়াই শিক্ষকতায় যোগ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশাসন ও শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে এই পার্থক্য এবং পরবর্তীতে যে বৈষম্য তৈরি হয়, তার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ত্রুটিকেই দায়ী করেছেন মন্ত্রী। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘পদে পদে বৈষম্য দেখা দিচ্ছে’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশাসন ক্যাডার ও শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এ কারণে পদে পদে বৈষম্যও দেখা দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ত্রুটির কারণে ঘটছে।

তিনি জানান, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা চার–পাঁচ মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়ার পর কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে যান এবং প্রশিক্ষণ শেষে কর্মস্থলে যোগ দেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য কোনো ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি নেই; তাঁরা সরাসরি শিক্ষকতায় যোগ দেন।

‘ছোট করে দেখা হয়’

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অবমূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অনেক সময় ছোট করে দেখা হয়। অথচ তাঁরাও বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পান। অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতো একই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাঁরা শিক্ষকতায় আসেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন

অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষা নিয়ে তেমন কথা বলা হয় না। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পড়বে ও শিখবে—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে ওই পর্যায়ে শিক্ষার মান কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে।

শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে এআই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কেও ধারণা নিতে হবে।

‘শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ’

শিক্ষাখাতে সরকারের বরাদ্দের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে।

শিক্ষকদের উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তাঁরা কাজ করছেন এবং এ জন্য প্রধানমন্ত্রী মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। শিক্ষকদের উন্নয়নের কথা না ভাবলে কাউকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হতো কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং নায়েমের প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক প্রিম রিজভী। সভাপতিত্ব করেন নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক।

Source: জাগো নিউজ২৪