মজুরি বৃদ্ধি, কর্মস্থলে নিরাপত্তা এবং সরকারের ‘যুদ্ধমুখী’ সামরিক নীতির বিরোধিতায় সোমবার (১৮ মে) ইতালিজুড়ে ২৪ ঘণ্টার মহাধর্মঘট হয়েছে। বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন ‘ইউনিয়নে সিন্দাকালে দি বাসে’ (ইউএসবি) ও আরও কয়েকটি ট্রেড ইউনিয়ন এ কর্মসূচির ডাক দেয়।
রেল, মেট্রো, বাস, ট্রাম—অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রায় সব মাধ্যমই কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার সকাল থেকে রোম, মিলান, নেপলস, তুরিনসহ বড় শহরগুলো স্থবির হয়ে পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন লাখো কর্মজীবী ও বিদেশি পর্যটক। রোমের ‘মেট্রো এ’ ও ‘মেট্রো বি’ এবং মিলানের মূল পাতালরেলপথেও সেবা বন্ধ থাকে।
রাষ্ট্রীয় রেল অপারেটর ‘ট্রেনিতালিয়া’ ও বেসরকারি ‘ইতালো’ হাই-স্পিড ও ইন্টারসিটি মিলিয়ে শত শত ট্রেন বাতিল করে। শ্রম আইনের বাধ্যবাধকতায় সকাল ৬টা-৯টা ও সন্ধ্যা ৬টা-রাত ৯টা কিছু জরুরি লোকাল ট্রেন ও বাস চলায় তখন স্টেশনে ছিল প্রচণ্ড ভিড়। বিমানবন্দরমুখী শাটল ও এক্সপ্রেস ট্রেন না চলায় আন্তর্জাতিক রুটের অনেক যাত্রীকে হেঁটে বা বেশি ভাড়ায় ট্যাক্সিতে যেতে হয়।
ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিতে সংসার চালানোর খরচ বেড়েছে, কিন্তু ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হচ্ছে না। উল্টো সামাজিক খাত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বাজেট কাটছাঁট করে ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দোহাই দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
সোমবার দুপুরে রোমের পিয়াজ্জা চিঙ্কুয়েচেন্তো চত্বরের সমাবেশে করের টাকা যুদ্ধে না ঢেলে শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন আর জনগণের কল্যাণে খরচ করার দাবি জানান শ্রমিক নেতারা। গাজায় যুদ্ধ থামানোর দাবিও ওঠে সমাবেশে; ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভকারীরা সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন।
লিভোর্নো ও জেনোয়া সমুদ্রবন্দরে ডক শ্রমিকদের আংশিক কর্মবিরতিতে পণ্য খালাস ও সরবরাহ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়। মজুরি নতুন করে নির্ধারণ এবং প্রতিরক্ষা বাজেট কমানোর দাবিতে মেলোনি সরকার সাড়া না দিলে জুনের মাঝামাঝি আরও বড় পরিসরে, দীর্ঘ মেয়াদে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউনিয়নগুলো। সরকার কিংবা পরিবহন মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতার প্রস্তাব দেয়নি।






