ইতালির ভেনিসে এক বাংলাদেশি গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ৩৬ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করে সান্টা মারিয়া মাজ্জিওরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভেনিস প্রসিকিউটর অফিসের নির্দেশে ১৫ মে সকালে মারঘেরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কারাবিনিয়ারি ও মেস্ত্রে কোম্পানির পুলিশ বাহিনী তাকে ধরে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনা ঘটে ৯ মে (শনিবার) রাত ৯টার দিকে। মারঘেরার একটি যৌথ অ্যাপার্টমেন্টে স্বামী ও তিন মাসের সন্তানকে নিয়ে সাবলেট থাকতেন ওই নারী। স্বামী কাজে বাইরে থাকার সময় একই বাসার অন্য কক্ষের বাসিন্দা অভিযুক্ত যুবক বিল নেওয়ার কথা বলে তার কক্ষে ঢোকে।
অভিযোগে বলা হয়, একা পেয়ে যুবক প্রথমে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে; ভুক্তভোগী স্বামীকে ফোন করতে চাইলে ফোন কেড়ে নেয় এবং শিশুটির সামনেই তাকে ধর্ষণ করে। পরে সন্তানকে নিয়ে বাসা থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন ওই নারী। খবর পেয়ে স্বামী জরুরি নম্বরে ফোন করে কারাবিনিয়ারিকে (ইতালিয়ান পুলিশ) বিষয়টি জানান।
পরদিন ১০ মে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়, সেখানে গোপনীয়তা বজায় রেখে তার ফরেনসিক ও চিকিৎসা পরীক্ষা হয়। এর পরদিন মা ও শিশুকে ওই বাসা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়।
হাতেনাতে ধরা না পড়ায় ইতালির আইন অনুযায়ী প্রথম দুই দিন অভিযুক্তকে সরাসরি গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। স্থানীয় পত্রিকা ‘ইল গাজ্জেত্তিনো’-তে খবরটি ছাপা হওয়ার পর ভেনিসের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়, অভিযুক্তকে কেন ধরা হয়নি সে প্রশ্ন তোলেন প্রবাসীরা।
তদন্ত কর্মকর্তারা মেস্ত্রে ও মারঘেরার সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের তথ্য এবং হাসপাতালের ফরেনসিক প্রতিবেদন ভেনিস আদালতের তদন্তকারী বিচারকের কাছে জমা দেন। প্রমাণ সঠিক বলে প্রতীয়মান হওয়ায় বিচারক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধমূলক হেফাজত’ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তিনি এখন ওই কারাগারে বন্দি আছেন।






